নিজস্ব প্রতিবেদক ও ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা ॥
গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথে সমানতালে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গণরায়ের বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিশ্রামে যাব না। যেদিন রাজপথ ও সংসদ একাকার হয়ে যাবে, সেদিন বালুর বাঁধ দিয়ে সমুদ্রের জোয়ার কেউ রুখতে পারবে না।”
গতকাল (২৪ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জাতীয় সংকট নিরসনের দাবিতে সমাবেশ থেকে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭১ সালে জনগণের রায় মেনে না নেওয়ায় যুদ্ধ অনিবার্য হয়েছিল এবং যারা রায় অস্বীকার করেছিল তাদের পরিণতি শুভ হয়নি। যারা এখন গণরায় অস্বীকার করছেন তারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ দাবি করেন, অথচ তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অবজ্ঞা করছেন। তিনি আরও বলেন, “আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদকে এই মঞ্চ কখনো বরদাশত করবে না। আমরা জাতির স্বার্থে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।”
অংশীদারিত্ব ও বিভক্তির রাজনীতি
বিএনপির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “নির্বাচনের আগে আপনারা বলেছিলেন সবাইকে নিয়ে দেশ চালাবেন, কিন্তু এখন জাতিকে বিভক্ত করছেন। একদলকে পাকিস্তান আর একদলকে আরব দেশে পাঠিয়ে আপনারা নিজেরাই দেশের জমিদার সাজছেন। মনে রাখবেন, দেশটা কারো বাপের নয় এবং আমরা ন্যায়বিচার (উই ওয়ান্ট জাস্টিস) চাই।”
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
নাহিদ ইসলাম: বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। জুলাই সনদ ও সংস্কারের পক্ষে এই রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।” তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চিকিৎসা সংকটের কথা উল্লেখ করে অস্থিতিশীলতার রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানান।
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ: এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, “সরকার কথা রাখেনি। জেলা পরিষদে নিজেদের লোক বসিয়ে তারা বাকশালের নমুনা দেখাচ্ছে। আমরা বিচারকদের দলীয় প্রভাবমুক্ত দেখতে চাই।”
মজিবুর রহমান মঞ্জু: এবি পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান শাসকদের আচরণে পাকিস্তানি জান্তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। জনরায় উপেক্ষা করা শুভ লক্ষণ নয়।
মাওলানা মামুনুল হক: সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের ভিত্তি হচ্ছে ১৯৪৭, ১৯৭১, ২০১৩ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের চেতনা। তিনি বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল ইতিহাসকে এই সংগ্রামের চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা’র রাশেদ প্রধান, সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ (হানজালা) ও ডাকসু সভাপতি সাদিক কায়েমসহ প্রগতিশীল ও সমমনা দলের শীর্ষ নেতারা।
খেলাফত মজলিসের তিন মাসের কর্মসূচি
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংকট নিরসনে মাওলানা মামুনুল হক নিম্নলিখিত কর্মসূচি ঘোষণা করেন:
মে, জুন ও জুলাই: জেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক নাগরিক সমাবেশ।
৫ আগস্ট: ঢাকায় বিশাল গণমিছিল।