আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা ॥
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে খোদ খোদ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপের বরাতে জানা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকানই মনে করছেন এই যুদ্ধ মার্কিন জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে নয়।
জনসমর্থনের নিম্নমুখী চিত্র পলিটিকো এবং পাবলিক ফার্স্ট পরিচালিত একটি যৌথ জরিপ অনুযায়ী, ইরানের ওপর এই সামরিক হামলাকে সমর্থন করছেন মাত্র ৩৮ শতাংশ নাগরিক। ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে শুরু করা এই অভিযানের কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জনসমর্থন আদায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। বরং সাধারণ মানুষের ধারণা, প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত মনোনিবেশ করতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বলন্ত সমস্যাগুলোকে অবহেলা করছেন।
সংশয়ে খোদ ট্রাম্প সমর্থকরাও জরিপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা ট্রাম্পকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছিলেন, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এখন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধকালীন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। প্রায় ৪১ শতাংশ নাগরিকের মতে, ইরান সংকট নিরসনে হোয়াইট হাউসের কাছে সুনির্দিষ্ট বা কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে যুদ্ধ শেষের পথে এবং লক্ষ্য অর্জনের দ্বারপ্রান্তে তিনি পৌঁছে গেছেন, তবে মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ তার এই দাবির ওপর আস্থা রাখতে পেরেছেন।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি রিপাবলিকান ভোট কৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে আসন্ন দিনগুলোতে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। মিশিগানভিত্তিক রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্ট জেসন রো’র মতে, ট্রাম্প একসময় ‘অহেতুক যুদ্ধ’ বিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। কিন্তু এখন হঠাৎ যুদ্ধংদেহী অবস্থানে চলে আসায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের স্থায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ক্লান্তি চলে এসেছে।
জ্বালানি সংকট ও মধ্যবর্তী নির্বাচন এদিকে ইরান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও লাফিয়ে বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাদ্যপণ্য ও তেলের এই ঊর্ধ্বগতি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অর্থনৈতিক প্রচারণাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল মায়াদিন।