শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম :
‎লালমনিরহাটে ‘ভোল বদল’ রাজনীতির কারিগর সোহরাবের পদত্যাগ, আলোচনার কেন্দ্রে ‘সুবিধাবাদ’ মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যে খুলছে বাংলাদেশি কর্মীদের বড় বাজার: কৃষি ও নির্মাণ খাতে ব্যাপক আগ্রহ নারী অধিকার ব্যাংক টাউনে অপপ্রচারের তপ্ত হাওয়া: পাল্টা অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি নাগরিক সমাজের: ‘খাত ধ্বংসের নীলনকশা’ রুখে দেওয়ার আহ্বান ধামরাইয়ে বর্ষবরণে বখাটেদের তাণ্ডব: শিল্পী মীমকে হেনস্তা ও প্রকাশ্যে মাদক সেবন বাজেটে শুল্ক না বাড়ানোসহ ৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলন দুটি মাস্টার ট্যাংকারে চট্টগ্রামে পৌঁছাল ৬৮ হাজার টন ডিজেল: কাটবে জ্বালানি সংকট কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য-পর্যটন প্রতিমন্ত্রী নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নে বাংলালিংক ও রমণীর হাতবদল

‎লালমনিরহাটে ‘ভোল বদল’ রাজনীতির কারিগর সোহরাবের পদত্যাগ, আলোচনার কেন্দ্রে ‘সুবিধাবাদ’

Coder Boss
  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ Time View

‎​লালমনিরহাট প্রতিনিধ ॥
‎আদর্শ নয়, বরং ক্ষমতার পাল্লা ভারী দেখলেই ভোল পাল্টানোয় সিদ্ধহস্ত লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাপ্টিবাড়ি ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সোহরাব এবার নিজের পিঠ বাঁচাতে নৌকার হাল ছেড়েছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ আত্মগোপন শেষে প্রকাশ্যে এসেই দলত্যাগের ঘোষণা দিলেন এই ‘ভোল বদল’ খ্যাত আলোচিত নেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে নিজ বাড়িতে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘শারীরিক অসুস্থতা’র অজুহাত দিলেও তা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।

​সুবিধাবাদের দীর্ঘ ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুস সোহরাব একসময় আদিতমারী উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ২০০৯ সালের উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি ১নং সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। দলীয় রেকর্ডে তার সদস্য পরিচিতি নম্বর ৩৫৩৮৮০৩। ২০১৪ সালের উত্তাল রাজনৈতিক সময়েও তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন।

​তবে ২০১৫ সালে ক্ষমতার রাজনীতিতে ভোল পাল্টে তিনি তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামানের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সেই সময় বিএনপিতে ‘মীরজাফর’ উপাধি পেলেও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই বাগিয়ে নেন জেলা পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। পরবর্তীতে দলীয় প্রভাবে গত ইউপি নির্বাচনে নৌকার টিকিট নিয়ে সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন তিনি।

​নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ও পদত্যাগ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহূর্তেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এই ‘নব্য’ আওয়ামী লীগার। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফেরেন। এলাকায় ফেরার পর আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে তড়িঘড়ি করে এই পদত্যাগের নাটক সাজিয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

​জনমনে প্রতিক্রিয়া আদিতমারীর সাধারণ মানুষের মতে, আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধাকে বড় করে দেখা সোহরাব এখন জনরোষ থেকে বাঁচতে এই কৌশল বেচেঁ নিয়েছেন। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা থেকে আওয়ামী লীগের দাপুটে ক্যাডার এবং বর্তমানে পরিচয়হীন হওয়ার এই চেষ্টাকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলার একাধিক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ক্ষমতার মোহে যারা বার বার দল পরিবর্তন করেন, তাদের স্থান কোথাও স্থায়ী হয় না। সোহরাবের এই পদত্যাগ মূলত অস্তিত্ব রক্ষার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102