আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ঢাকা: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই জলপথে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা বিশ্ব অর্থনীতিকে রীতিমতো ‘শ্বাসরুদ্ধ’ করে ফেলছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গভীর সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। গুতেরেস সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন,
“যদি আজই এই প্রণালির ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়, তবুও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যাবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে এবং উচ্চমূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির ‘সবচেয়ে ইতিবাচক’ সমাধান আসলেও বিশ্বকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দুর্দশার ভার বহন করতে হবে।
সংকটের প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। এর জের ধরে গত ১৩ এপ্রিল থেকে পারস্য উপসাগরে পাল্টা নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং দেশটির তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই জলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমানের মুসান্ডাম উপদ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশের বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই সরু পথটি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।