নিজস্ব প্রতিবেদক, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল আলোচনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং গত আন্দোলনে নিহতের ঘটনার বিচার দাবিতে রাজধানী তেহরানে রাজপথে নেমেছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চলা এই বিক্ষোভ ইরানকে আবারও কোনো বড় গণ-আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না- এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
টানা দ্বিতীয় দিনের রাজপথ দখল
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র তথ্যমতে, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতদের স্মরণে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গত শনিবার তেহরানে প্রথম সমাবেশ শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনেও শত শত তরুণ রাজধানী তেহরানের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই বিক্ষোভকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
মুখোমুখি অবস্থান ও উত্তেজনা
সরকারবিরোধী এই জেন-জি বিক্ষোভের বিপরীতে রাজপথে নেমেছে ক্ষমতাসীন সরকারের কট্টর সমর্থক তরুণ-তরুণীরাও। তারা সরকারের পক্ষে মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেওয়ায় তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে দেশটির তিনটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ করে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রধান দুর্গে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভী আমলের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করছেন এবং সরকারবিরোধী নানা কঠোর স্লোগান দিচ্ছেন।
অর্থনৈতিক সংকট ও প্রেক্ষাপট
বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে দেশি মুদ্রা ‘রিয়াল’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার সংকট নিয়ে গত ডিসেম্বরের শেষে প্রথম ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকরা রাজপথে নামেন। সেই অর্থনৈতিক অসন্তোষই এখন রাজনৈতিক রূপ নিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
পরমাণু আলোচনার ভবিষ্যৎ ও অনিশ্চয়তা
অভ্যন্তরীণ এই অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একদিকে যখন পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে আলোচনার টেবিলে দৌড়ঝাঁপ চলছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরের এই অরাজকতা ইরান সরকারের ওপর চাপ দ্বিগুণ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বশক্তির সাথে চলমান আলোচনায় তেহরানের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।