নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘারপাড়া (যশোর) ॥
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাতময় পরিস্থিতি এখন চরমে। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, ডিজিটাল মাধ্যমে উস্কানি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী টি এস আইউবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও বিএনপি নেতা নুরে আলম সিদ্দিকী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি আইউবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং নিজ দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ষড়যন্ত্রের বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন।
ফেসবুকে উস্কানি ও হামলার শঙ্কা
নুরে আলম সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, টি এস আইউব নিজের ‘পেইড’ লোক দিয়ে ফেসবুকে বিগত নির্বাচনের বিএনপি প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী, বাঘারপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল কবির বিশ্বাস এবং আইনজীবী শিহাবের ছবি যুক্ত করে উস্কানিমূলক পোস্ট দিচ্ছেন। এমনকি তিনি সরাসরি ফেসবুক কমেন্টে তার ‘সন্ত্রাসীবাহিনীকে’ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন। নুরে আলম দাবি করেন, তাকে হত্যা এবং গাড়ি ভাঙচুরের জন্য আইউব মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন। ইতিপূর্বে বাঘারপাড়ার বিভিন্ন মোড়ে তার ওপর হামলার জন্য লোক সেট করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নেতাকর্মীদের মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, টি এস আইউব ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে বাঘারপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতির সন্তান ও জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসিফ খান লিটনকে ঢাকার একটি জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করেছেন। এমনকি প্রেসক্লাব সভাপতিকে হত্যার জন্য ঢাকার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপকে ‘কন্ট্রাক্ট’ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন নুরে আলম।
মনোনয়ন ও ঋণখেলাপি বিতর্ক
যশোর-৪ আসনে টি এস আইউবের প্রার্থী হতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করে নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “তিনি গত নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারার জন্য আমাকে দায়ী মনে করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি ৩৬ লাখ ডলারের এলসি জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং এবং জনতা ব্যাংকের জমি জালিয়াতি সংক্রান্ত একাধিক দুর্নীতির মামলায় জর্জরিত। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একজন ঋণখেলাপি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনের সময় টি এস আইউব ঋণ পরিশোধের নাম করে বাঘারপাড়া ও অভয়নগরের নেতাকর্মী এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা তুলেছিলেন, যা পরে ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। মতিয়ার রহমান ফারাজী ও নুরে আলমের হস্তক্ষেপে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বড় অঙ্কের টাকা খোয়া যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাতটি সরাসরি প্রশ্ন
নুরে আলম সিদ্দিকী তার পোস্টে টি এস আইউবের কাছে সরাসরি সাতটি প্রশ্ন রেখে জানতে চান- তার এলসি জালিয়াতি, দুদকের মামলা, অর্থঋণ আদালতের মামলা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপি তালিকায় নাম ওঠার পেছনে নুরে আলমের কোনো ভূমিকা আছে কি না? তিনি দাবি করেন, আইউব আদালতকে ভুল তথ্য দিয়ে ঋণখেলাপি তালিকা থেকে নাম কাটানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা পরে ঢাকা ব্যাংকের আপিলে স্থগিত হয়ে যায়।
রাজপথের লড়াই বনাম ব্যক্তিগত স্বার্থ
নুরে আলম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যখন আমরা রাজপথে গুলি উপেক্ষা করে নেতৃত্ব দিচ্ছিলাম, তখন টি এস আইউব ব্যক্তিগত দুর্নীতির মামলায় সস্ত্রীক কারাগারে ছিলেন। আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এসে তিনি দলীয় কর্মীদের ওপরই সন্ত্রাস লেলিয়ে দিচ্ছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, টি এস আইউবের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণেই যশোর-৪ আসনটি হাতছাড়া হয়েছে। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আইউবের দুর্নীতির আরও প্রমাণ জনসমক্ষে আনবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে টি এস আইউবের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এলাকায় এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।