শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন
২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম :
শহীদ আবু সাঈদ হত্যায় ২ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন সাভার-গাজীপুরে আজ ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকছে না: ভোগান্তিতে লাখো গ্রাহক সবাইকে খুশি করার দায় আপনার নয়: মানসিক সুস্থতায় প্রয়োজন ‘না’ বলার সাহস ইসরায়েলি আগ্রাসনে ফুঁসছে ইরান: কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি, হুমকিতে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ সততার আবরণে পাহাড়সমান দুর্নীতি: সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ‘আমলনামা’ “বৈশাখ” ভৈরবে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা দালাল চক্র বাসসের নেতৃত্বে কামাল উদ্দিন সবুজ: ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: নেপথ্যে খামেনির সম্মতি ও ট্রাম্পের ঘোষণা ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা: নেপথ্যে পাকিস্তান ও ১০ দফার প্রস্তাব

সবাইকে খুশি করার দায় আপনার নয়: মানসিক সুস্থতায় প্রয়োজন ‘না’ বলার সাহস

Coder Boss
  • Update Time : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডেস্ক ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ॥
মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে স্বভাবগতভাবেই অন্যের প্রিয়পাত্র হতে চায়। কিন্তু সমস্যা তখনি দানা বাঁধে, যখন অন্যকে খুশি রাখাকেই আমরা জীবনের পরম লক্ষ্য বা দায়িত্ব মনে করি। কর্মক্ষেত্র হোক কিংবা পরিবার- সবাইকে সন্তুষ্ট রাখা কেবল কঠিনই নয়, বরং বাস্তবিক অর্থে অসম্ভব। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত ‘পিপল প্লিজিং’ (People Pleasing) বা সবাইকে তুষ্ট করার মানসিকতা ধীরে ধীরে একজন মানুষের আত্মসম্মান ও ব্যক্তিত্বকে ধসিয়ে দেয়।

কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা হ্রাসের ঝুঁকি
অনেকের ধারণা, অফিস বা কর্মস্থলে সহকর্মী ও বসকে সবসময় খুশি রাখলেই সাফল্য হাতের মুঠোয় আসবে। তবে গবেষণার চিত্র ভিন্ন। যারা সবসময় অন্যদের মন যুগিয়ে চলেন, তারা সঠিক সময়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, যা প্রকারান্তরে কাজের মান কমিয়ে দেয়। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA)-এর তথ্যমতে, অন্যের অনুমোদনের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে প্রচণ্ড মানসিক চাপ এবং কর্মস্পৃহা নষ্ট বা ‘বার্নআউট’ তৈরি করে।

পরিবার ও ব্যক্তিগত সীমানা
পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা বিদ্যমান। নিজের ইচ্ছা, সময় ও সীমাবদ্ধতাকে বিসর্জন দিয়ে কেবল অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে থাকলে মনের ভেতর ক্ষোভ ও ক্লান্তি জমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, একতরফা ত্যাগ নয়। নিজের জন্য একটি ‘ব্যক্তিগত সীমারেখা’ বা Personal Boundary নির্ধারণ করা স্বার্থপরতা নয়, বরং এটি মানসিক পরিপক্বতার লক্ষণ।

আত্মমর্যাদা ও গবেষকদের মত
বিখ্যাত গবেষক ব্রেনে ব্রাউন (Brené Brown) দেখিয়েছেন, যাদের ব্যক্তিগত সীমারেখা স্পষ্ট, তারা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশি সম্মান পান। বাস্তবতা হলো, যে ব্যক্তি নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে জানে, সমাজ তাকেই বেশি মূল্যায়ন করে। বিপরীতে, সবসময় সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা করলে মানুষ আপনাকে ‘দায়িত্ববান’ ভাবার বদলে ‘সহজে ব্যবহারযোগ্য’ বা ‘লুজ ক্যারেক্টার’ হিসেবে দেখতে শুরু করে।

উপসংহার
ভালো মানুষ হওয়া মানে এই নয় যে, সবার সুখের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিতে হবে। সততা ও দায়িত্বের সাথে কাজ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে ‘না’ বলতে শেখাও আত্মরক্ষার একটি অংশ। মনে রাখতে হবে, আপনি হয়তো সবার মন জয় করতে পারবেন না, কিন্তু নিজের আত্মসম্মান ও মানসিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্পূর্ণ আপনার নিজের হাতে। নিজের মূল্য বুঝলে তবেই সম্পর্কগুলো স্বাস্থ্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102