শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন
২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম :
সড়ক দখলমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন দৌলতপুরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের প্রদর্শনী মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ১৮ এপ্রিল শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট: সর্বোচ্চ সেবার প্রতিশ্রুতি ধর্মমন্ত্রীর সংবিধান ‘সংশোধন’ না ‘সংস্কার’: সংসদ উত্তাল, কমিটিতে যাওয়া নিয়ে বিরোধী দলের অনড় অবস্থান আমিরাতে ২৭ মে ঈদুল আজহার সম্ভাবনা: টানা ৬ দিনের ছুটির আমেজ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়: বাদ যায়নি মৃত ঘোষিত জীবন্ত শিশুও! ডিপো থেকে অবৈধভাবে আনা জ্বালানি তেল জব্দ জনগণই প্রকৃত মালিক: ‘প্রজাতন্ত্রের সেবক’ হওয়া সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পটিয়ায় দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে নাচঘর উদ্বোধন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ মধুখালীতে ট্রেনে কাটাপরে জমজ শিশু নিহত

অসুস্থ্য শওকত মাহমুদের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় পরিবার

Coder Boss
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ Time View

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি॥
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ কারাগারে অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় তার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শওকত মাহমুদের বড় মেয়ে মেহেত মামুন। সম্প্রতি তিনি বাবার মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরে আবেদন দাখিল করেছেন। একই সাথে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিএনপি’র সাবেক এই নেতার মুক্তির জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরে দাখিলকৃত আবেদনপত্রে মেহেত মামুন বলেন, আমার পিতা শওকত মাহমুদ তার জীবনের পুরো সময়জুড়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে কাটিয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রধান নেতা আপনার শ্রদ্ধেয় পিতা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করেছেন। সেভাবেই দলের অনুগত হিসেবে সাংবাদিক পেশার মানুষদের সুসংগঠিত করেছেন। এরজন্য তাকে কম নিগৃহের শিকার হতে হয়নি! আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ৭০টি মামলায় দীর্ঘ দেড়বছর কারাবসা করেন। তবে আপনার ও আপনার মার থেকে পাওয়া দীক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে কখনো আপস করেননি।

তিনি বলেন, আমার পিতা গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এ একটি মিত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন। তাকে এক কাপড়ে গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা তুলে নিয়ে একটি মামলায় যুক্ত করেন, যার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক নেই বলে আব্বা (শওকত মাহমুদ) বারবার বলে আসছেন। তার চলমান কারাবাস সময়ে যতবার দূর থেকে কথা বলার সুযোগ হয়েছে তাতে তিনি তার কষ্টের জীবনের বাইরেও আপনার খোঁজ নিয়েছেন। আপনি যখন গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দেশের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে গণতন্ত্র ফেরানোর পথে হাল ধরেন, তিনি তখন খুব আপ্লুত হয়ে আপনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। খুশি হয়ে তার অভিবাদন জানাতে আপনার দ্বারস্থ হওয়ার কথা বললেও সে সুযোগ মেলেনি। আমার পিতার একমাত্র অভিবাবক দেশনেত্রী বেগম জিয়ার প্রয়াণেও তিনি বিমর্ষ, ব্যথিত। এতে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত। তিনি তার রাজনৈতিক সর্বোচ্চ নেতার আওয়ামী দুঃশাসনে মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ায় শোকবিহ্বল। আব্বা (শওকত মাহমুদ) তখনই শোকসন্তপ্ত পরিবার হিসেবে আপনাকে তার বার্তা পৌঁছাতে বললেও সে সুযোগও হয়নি।

মেহেত মামুন আরো বলেন, এর মধ্যে আপনি দলের সঙ্গে দেশেরও হাল ধরেছেন। একের পর এক চমক দিয়ে আপনি শুধু দল নয় বরং দেশের সর্বোচ্চ অভিবাবকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছেন। আপনি আপনার সবচেয়ে বিরোধী ভূমিকায় থাকা লোককেও আপনার মানবিকতা, দুরদর্শী কার্যালাপ দিয়ে বিমোহিত করেছেন। এতে আব্বা (শওকত মাহমুদ) বরাবরের ন্যয় আপনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে মন্ত্রমুগ্ধ। আপনি সরকারে দেড় মাসের মতো সময়ে ঘুনেধরা সমাজ, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের আচারে ও কর্মকাণ্ডে যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছেন তাতে শওকত মাহমুদ ও তার পরিবার হিসেবে আমরাও আপনার নেতৃত্বের প্রতি আরো অনুগত, আরো আদর্শিক জায়গা থেকে বাধ্যগত হয়ে আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। আমার আব্বাসহ (শওকত মাহমুদ) দেশের আপামর জনতার একমাত্র অভিবাবক হিসেবে আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।

তিনি বলেন, একটি মহল মিথ্যা তথ্য ও ধারণাপ্রসূত হয়ে আমার পিতা শওকত মাহমুদকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার রেখে হয়রানি করছে। সবশেষ যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সে মামলায় জামিনের পর তাকে ফের এমন একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক নেই। ওই মামলাটি ছিল আমার পিতাকে গ্রেপ্তারের আরো আগের। আওয়ামী পন্থী একদল লোকের করা আয়োজনের সঙ্গে আমার আব্বাকে (শওকত মাহমুদ) জড়িয়ে জঘন্যতম মিথ্যাচার করা হয়েছে। স্পষ্টত তা হয়রানির উদ্দেশেই করা হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মেহেন মামুন আরো বলেন, আপনি দেশের অভিবাবক হিসেবে এখন সবকিছু আপনার নখদর্পনে। আপনি নিজ থেকে তদন্তের দায়িত্ব কোনো দায়িত্বশীল সংস্থাকে দিলেই এটি প্রকাশ পাবে, আমার পিতা শওকত মাহমুদ তার জীবনের কোনো মুহূর্তে আপনার ও আপনার মা’র আদর্শ ও দেখানো পথ থেকে বিচ্যুত হননি। আমাদের পরিবারের সদস্যকে সেভাবেই তৈরি করেছেন। তবে একটি মহল তাকে বরাবরই দলের বিরুদ্ধাচাণ করার দায়ে সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছে এবং যার ফলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকেও তাকে আব্বার (শওকত মাহমুদ) বরখাস্ত হতে হয়। এর পেছরে আব্বার (শওকত মাহমুদ) দায় বা দোষ যে নেই তা বলছি না। আব্বাও নিজেকে এর জন্য দোষী ভাবেন নিজেকে। একবার আপনার সদয় অনুমতি মিললে তিনি ক্ষমা চাইতে চান অবলীলায়। তিনি চান, অভিবাবক হিসেবে আপনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি করবেন তা তিনি বিনাদ্বিধায় মেনেও নেবেন। তবে তিনি এতটুকু বারবার বলতে চান, তিনি আপনি, আপনার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের তৈরি বিএনপির প্রশ্নে আপসহীন।

প্রধানমন্ত্রীকে কিছু তথ্য দিয়ে শওকত মাহমুদের জেষ্ঠ্য কন্যা আরো বলেন, আমার আব্বা (শওকত মাহমুদ) তার এবারের কারাবাসের ঠিক চারদিন আগে ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখেও আপনার মা’র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কালবেলা পত্রিকায় কলাম লিখেছেন ‘বেগম জিয়া এখন কী ভাবছেন’। যে নির্বাচনের মাধ্যমে অবশ্যম্ভাবী বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হবে এবং আপনি দেশের হাল ধরবেন সে নির্বাচনের সময় ঘোষণার পরপরই তাকে স্বাগত জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সংবাদ করিয়েছেন। সেটিও ৬ অগাস্ট ২০২৫ তারিখে। আব্বা ২৯ মে ২০২৫ তারিখেও তার ফেইসবুকে লিখেছেন ‘স্বাধীনতার প্রধান ব্যক্তিত্ব জিয়া’। এসবই তার কারাবাসের পূর্বের কয়েক মাসের কার্য তালিকায় রয়েছে। তার ব্যক্তিগত ফেইসবুকে এখনও নিজের বায়োতে লেখা রয়েছে ‘বেগম জিয়াকে মুক্তি ছাড়া অন্য কোনো স্থিতি নয়, নয় আর কোনো নির্ণয়া’, তার কভার ফটোতে ঝুলছে রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের ছবি সম্বলিত ‘বাংলাদেশ তুমি ধানের শীষে মিশে থাকা শহীদ জিয়ার স্বপন’ গানের লাইন। এতে পষ্ট হয় তার আবেগ ও আদর্শের জায়গায় কিঞ্চিৎ কষ্মিণকালেও পড়েনি।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা এতটুকু বলতে পারছি কারণ আমরা পরিবার চার দেয়ালের মধ্য থেকে তার মানবেতর জীবন দেখেছি আওয়ামী লীগের দুঃশাসনামলে। তিনি একের পর এক মামলায় যখন জর্জরিত তখনও তাকে তৎকালীন হাসিনা সরকার নানাভাবে চাপে রেখেও বিএনপি থেকে সড়াতে পারেনি। এর জন্য দীর্ঘ দেড়বছরের কারাবাস করতে হয়ে আব্বাকে। আর আমরা দিনকে দিন দেখেছি কীভাবে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে সব। ৫ অগাস্ট আসার আগের এবং পরের সময়েও আমাদের পরিবারকে বারবার বাসা ভাড়ার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। একের পর এক ছোটো বাসা ভাড়া করে দিনানিপাত করে জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছে। এ সময় সাধারণ ইউটিলিটি বিল ঠিকঠাক দিতে না পারায় তা বিচ্ছিন্নের ঘটনাও ঘটেছে। পরিবারের একমাত্র সম্বল ব্যক্তিগত মায়ের গাড়িও বিক্রি করে সংসারের সাধারণ খাওয়া-দাওয়ার খরচা সামাল দিতে হয়েছে। এগুলো আমাদেরই অভিজ্ঞতা! এর বাইরে রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে আপনি বা আপনার দল কিছু জানলে তা আমরা সে বিষয়ে অজ্ঞ। তবে পরিবারের ভেতর থেকে তাকে বরাররই পেয়েছি স্বচ্ছ ও নির্মোহ। তার প্রায় চারদশকের রাজনীতিতেও এমন দিনানিপাতের দিন আমাদের কাছে তার আওয়ামী দুঃশাসনের সামনে নত না হওয়া প্রমাণ করে। তবুও তিনি কোনো দোষ, ত্রুটি করলে আপনার কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আমার আব্বাও (শওকত মাহমুদ) অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে তার জানা-অজানা ভুল ও দোষের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। আপনার সাক্ষাৎ কামনা করে তিনি দল বা আদর্শের জায়গা থেকে যেকোনে ভুলের জন্য তার বার্তাও নতমস্তিষ্কে তুলে ধরতে চান।

শওকত মাহমুদের মুক্তি চেয়ে তার কন্যা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার আব্বাকে (শওকত মাহমুদ) কারামুক্ত হতে আপনার একান্ত সহযোগিতা এবং সুদৃষ্টি কামনা করছি। কারণ তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে এখন এসব হয়রানিতে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। শেষ যেদিন কথা হল, অপর একটি মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানোর পর তিনি ব্যথিত ও মর্মাহত বললেন, আমি বুঝে গেছি। এই আমার শেষ। মৃত্যু ছাড়া আমার বের হওয়ার সুযোগ নেই। তোমরাও প্রস্তুত থাক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ কথা আমাকে, আমার ভাইবোন ও আমার আম্মাকেও একদম ভেঙে দিয়েছে। আমরা আইনি লড়াইয়ে বিপর্যস্ত হয়ে তার আপনার দ্বারস্থ হওয়ার সব চেষ্টাই করে গেছি। আমি ও আমার পরিবারের বিশ্বাস, আমার আব্বার (শওকত মাহমুদ) ২০০৪ সালের ৬টি বাইপাস সার্জারি, ২০১৩ সালের দুটি স্টেন্ট এবং ২০২২ সালের আরো দুটি স্টেন্ট বসানোর তথ্য ও বর্তমানে থাকা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিও ইপিডি, শ্বাসকষ্ট, চলনশক্তির দুর্বলতা ও এবং বিভিন্ন রোগে ভোগার তথ্য জেনে আপনি অবশ্যই আপনার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার প্রতি সদয় হবেন। তিনি এতটাই বর্তমানে অসুস্থ যে তাকে মিথ্যা মামলায় তাও আবার অজ্ঞাত হিসেবে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ায় ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ভর্তি হতে হয়। সেখানে রিউমাটোলজি বিভাগের অধীনে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।

মেহেত মামুন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার আব্বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আইনি লড়াই করতে গিয়ে পরিবারের অর্থাভাবও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আইনি খরচ মেটাতে গিয়ে তার চিকিৎসা খরচা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি এখন মৃত্যুর দিন গুনছে। পরিবারের সদস্য হিসেবে তা আমাদের চোখের সামনে হওয়ায় আমারও বিমর্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি সদয় হয়ে আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে কারামুক্তি দিন। তার যেকোনো অপরাধের জন্য ক্ষমা করুন। আমি পরিবারের তরফে আমার আব্বার আশুমুক্তির জন্য আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিনীত প্রার্থনা আপনার নিকট আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে মুক্তির বিষয়ে সুদৃষ্টি দিন, নয়তো আপনার সহযোদ্ধা কারাগারেই হয়তো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন!

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102