আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বর্তমান ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। অনেকটা তুরুপের তাসের মতো তারা হাতে নিয়ে বসে আছে ‘বাবেল মান্দেব’ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি যেকোনো মুহূর্তে লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিলে হরমুজ প্রণালীর স্থবিরতার সঙ্গে যুক্ত হবে এক নতুন সংকট। এই জোড়া ধাক্কায় থমকে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি, যা অঞ্চলে অঞ্চলে ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
ইরান-হুথি সমীকরণ ও সামরিক সক্ষমতা
হুথিরা এখন আর কেবল সাধারণ কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী নয়; ইরানি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তারা এখন উন্নত মিসাইল ও ড্রোন শক্তিতে বলীয়ান। এমনকি মার্কিন রণতরীতে সরাসরি আঘাত হানার দুঃসাহস ও সক্ষমতা- উভয়ই তারা প্রদর্শন করেছে। তেহরানের সঙ্গে তাদের কৌশলগত মিত্রতা এতটাই নিবিড় যে, ইরানের সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তারা বাবেল মান্দেব প্রণালী পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।
ইউরোপের জ্বালানি ও পণ্য সংকটের শঙ্কা
বাবেল মান্দেব বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো ইউরোপের তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৪০% ধস নামা। রাশিয়ার পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই এই রুটটি বন্ধ হলে ইউরোপীয় দেশগুলো আক্ষরিক অর্থেই ‘তামা তামা’ হয়ে যাবে। ইউরোপের আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই অর্থনৈতিক চাপ হবে অকল্পনীয়।
বিপাকে আমেরিকা ও মিত্রশক্তি
প্রকাশ্যে মিডিয়া যতটা বলছে, পর্দার আড়ালে আমেরিকা ও ইউরোপ তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি চাপে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে মার্কিন প্রশাসন মরিয়া হয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুদ্ধে টানার চেষ্টা করলেও, সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি নিতে কেউ রাজী হচ্ছে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, আমেরিকা এখানে অনেকটা ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষাকারী ‘ভাড়াটে’ শক্তির মতো ভূমিকা পালন করছে।
নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি এখন যেখানে
হরমুজ প্রণালী ইরান ইতোমধ্যেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এখন নজর কেবল বাবেল মান্দেব প্রণালীর দিকে। হুথিরা যদি মাত্র ১৫ দিনের জন্য এই রুট বন্ধ রাখতে পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে ইরানের উত্থান নিশ্চিত হবে। এতে বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার প্রভাব কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।