সংস্কৃতি ডেস্ক, নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
ঢাকা: তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাঙালির ড্রয়িংরুমে বিনোদনের সমার্থক নাম ‘ইত্যাদি’। কিংবদন্তি হানিফ সংকেতের জাদুকরী নির্দেশনায় এবারের ঈদ-ইত্যাদিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ৩৬ বছর পেরিয়ে ৩৮ বছরে পদার্পণ করা এই অনুষ্ঠানটি এবারও (২৭ মার্চ ২০২৬) দর্শকহৃদয় জয় করেছে নাটক, গান, নৃত্য এবং তীক্ষ্ণ সামাজিক বার্তার এক অনবদ্য মিশেলে।
শাশ্বত সুর ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন
বরাবরের মতো অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই কালজয়ী গান ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ দিয়ে। তবে এবার এর চিত্রায়ণে ছিল ভিন্নধর্মী মুন্সিয়ানা; বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের একাকী মানুষদের অংশগ্রহণে গানটি পেয়েছে এক নতুন আবেগীয় মাত্রা। এরপরই সমাজের তিন শ্রেণির মানুষের ঈদ বাজারের বৈষম্য নিয়ে পরিবেশিত মিউজিক্যাল ড্রামাটি দর্শক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে, যেখানে উঠে এসেছে অবৈধ আয়ের আস্ফালন বনাম নিম্নবিত্তের হাহাকার।
বিশ্বাসের সংকট ও শুদ্ধতার আহ্বান
অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকীর মিউজিক্যাল ড্রামায় ফুটে উঠেছে সমাজের ‘বিশ্বাসের সংকট’। অন্যদিকে, দর্শক পর্বে বিশেষ অতিথি মোশাররফ করিমের উপস্থিতিতে প্রতীকী ‘তালা’ ব্যবহারের মাধ্যমে গুজব, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘পরিষ্কার পুরস্কার’ শিরোনামের নাট্যাংশটি। যেখানে ভালো বাড়িওয়ালা, আদর্শ চালক ও সুনাগরিকদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে অন্ধকার দূর করে আলো আনার এক নান্দনিক আহ্বান তুলে ধরা হয়।
তারকার মেলা ও সমসাময়িক বিদ্রুপ
বর্তমান সময়ের ‘ভাইরাল’ হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে সাজানো ‘ভাইরাল স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ ও ‘ভিউ পাথর’ সংক্রান্ত নাট্যাংশগুলো ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কৌতুকপূর্ণ। গানে গানে সমাজের নীতিকথা মনে করিয়ে দিয়েছেন সাবিলা নূর ও শরিফুল রাজ। বিদেশিদের নিয়ে করা নিয়মিত পর্বটিতে এবার বিদ্রুপ করা হয়েছে সুবিধাবাদী ও ‘দু-মুখো’ মানুষদের।
সুরের মূর্ছনা ও বিশেষ প্রাপ্তি
সংগীতের আয়োজনে এবার চমক দিয়েছেন ইমরান ও বুবলী। গান ও অভিনয়ের এই ভিন্নধর্মী যুগলবন্দী দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এছাড়াও ছিল তমা মির্জা ও হিমির নাচ, হাবিব ওয়াহিদের পরিবেশনা এবং সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদ-ইত্যাদি ছিল যেমন উৎসবমুখর, তেমনি শিক্ষণীয়। অনুষ্ঠানের শেষে উঠে আসে এক পরম প্রাপ্তির কথা- গণমাধ্যম ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের জন্য হানিফ সংকেতের ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ। অনুষ্ঠানের ভাষায় বলতে গেলে, এটি সত্যিই এক ‘পরিষ্কার পুরস্কার’, যা যোগ্য ব্যক্তির হাতেই শোভা পেয়েছে।