শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৩শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম :
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: কার্য উপদেষ্টাসহ ৫ সংসদীয় কমিটি গঠন, পর্যালোচনায় আসবে ১৩৩ অধ্যাদেশ রাষ্ট্রপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও নৈতিকতা: পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন ধামরাইয়ে জরাজীর্ণ মিটারে বারবার আগুন: নতুন সংযোগে পল্লী বিদ্যুতের ‘গড়িমসি’, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা ইরানে সরকার পতন সম্ভব নয়: ইসরায়েলের ‘অসহায়’ স্বীকারোক্তি হরমুজ প্রণালিতে ৩ জাহাজে ভয়াবহ হামলা: একটিতে আগুন, নাবিকদের উদ্ধার সালথায় আওয়ামী আমলের সারের ডিলার বাতিলের দাবিতে উত্তাল মানববন্ধন ঝুঁকিপূর্ণ মিটারে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক: ধামরাইয়ে নতুন সংযোগ দিতে পল্লী বিদ্যুতের গড়িমসি ও মালিকপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগ জমে উঠেছে ইসলামপুর ঈদের বাজার, খুশি ব্যবসায়ীরা ॥ ইবাদতে চাই পূর্ণ মনোযোগ: রমজান হোক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাস নেতানিয়াহুর ‘মৃত্যু’ নিয়ে ধোঁয়াশা: ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবিকে ‘গুজব’ বলছে ইসরায়েল

রাষ্ট্রপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও নৈতিকতা: পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন

Coder Boss
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ১০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডেস্ক ॥
ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য এবং তার অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দেশে নতুন করে চরম রাজনৈতিক ও আইনি অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। তবে মাসখানেক পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, পদত্যাগপত্রের কোনো দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই। রাষ্ট্রপতির এই দ্বিমুখী অবস্থানকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতারা সরাসরি “মিথ্যাচার” এবং “শপথ ভঙ্গ” হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

বিপ্লবের চেতনা বনাম দলীয় আনুগত্য
আন্দোলনকারীদের মতে, মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত অনুগত এবং দলটির প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সাবেক সদস্য। কয়েকশ শহীদের রক্তে অর্জিত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ। এমতাবস্থায় শেখ হাসিনা সরকারের একজন সক্রিয় অংশীদারকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে রাখা বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, নতুন বাংলাদেশে পুরনো ব্যবস্থার কোনো প্রতিনিধি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে থাকতে পারেন না।

আইনি জটিলতা ও ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চলছে নানা বিতর্ক। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রক্রিয়া জটিল হলেও আইনবিদরা মনে করছেন, এটি একটি “অস্বাভাবিক পরিস্থিতি”। এক্ষেত্রে সংবিধানের আক্ষরিক ব্যাখ্যার চেয়ে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ বা জনগণের ইচ্ছাকেই (Public Will) সর্বোচ্চ আইন হিসেবে গণ্য করা উচিত। তাকে পদে রাখা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংসদ বয়কট ও আস্থার সংকট
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) নবগঠিত সংসদের প্রথম সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করে বিরোধী দলগুলো একটি কঠোর রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। তাকে “অবৈধ” ও “বিতর্কিত” হিসেবে চিহ্নিত করে সংসদ কক্ষ ত্যাগের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, রাষ্ট্রের একটি বড় অংশ তাকে আর “অভিভাবক” হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন সংসদ ও জনগণের বিশাল অংশ রাষ্ট্রপতির ওপর আস্থা হারায়, তখন তার পদে থাকা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

স্বচ্ছতার পথে বাধা ও উপসংহার
জুলাই-আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ যখন একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র চাইছে, তখন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিতর্কিত ভূমিকা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ইতিহাস তাকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাষ্ট্রপতির পদটি কেবল আলঙ্কারিক নয়, এটি সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মো. সাহাবুদ্দিন সেই আস্থা হারিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে তার পদত্যাগ বা অপসারণ এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102