নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামরাই (ঢাকা) ॥
ধামরাই (ঢাকা): ঢাকার ধামরাইয়ে ঢুলিভিটা পাইকারি কাঁচাবাজার ও মৎস্য আড়ত মার্কেটে জরাজীর্ণ ও ওভারলোডেড বিদ্যুৎ মিটারের কারণে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করলেও ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর ধামরাই জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের অবহেলা এবং জায়গার মূল মালিকপক্ষের অসহযোগিতার কারণে বাজারের সকল ব্যবসায়ী এখন চরম অগ্নিকাণ্ড আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
সরেজমিনে বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে স্থাপিত পুরনো মিটারগুলো বাজারের বর্ধিত লোড নিতে পারছে না। ফলে প্রায়ই শর্ট সার্কিট হচ্ছে এবং তার পুড়ে ছোটখাটো আগুনের সূত্রপাত ঘটছে। গত ১০ মার্চ পাশের একটি বাজারেও ওভারলোডের কারণে মিটারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, যা পল্লী বিদ্যুতের অফিস থেকে প্রাপ্ত লাইসেন্স ও তালিকাভুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান বেনজির আহমেদ প্রত্যক্ষ করেছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় কোটি কোটি টাকার মালামাল ও জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের গড়িমসি:
বাজার কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করা হলেও ধামরাই জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। শুরুতে ‘মিটার স্বল্পতা’র কথা বলা হলেও বর্তমানে মিটার মজুদ থাকা সত্ত্বেও ডিজিএম (লিপি) এবং পিওসি অফিসার খোরশেদ আলম লাইন নির্মাণ বা কাগজপত্রের ত্রুটির অজুহাতে সংযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। নিয়ম মেনে আবেদন ও যোগাযোগ করার পরও কর্মকর্তাদের এমন রহস্যজনক আচরণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ ও অসহযোগিতার অভিযোগ:
এদিকে বাজারের ভাড়াটিয়া কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনাকারীরা জায়গার মূল মালিকপক্ষের (মোঃ মোস্তফা জামান গং) বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী বাজারে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক মিটারের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও মালিকপক্ষ তাতে সায় দিচ্ছে না। এমনকি নতুন মিটারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের অনুরোধ করা হলেও তারা তাতে কর্ণপাত করছেন না।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের চুক্তি অনুযায়ী ২০ লক্ষ টাকা জামানত এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাজারটি গড়ে তোলা হলেও বর্তমানে মালিকপক্ষের পরোক্ষ মদদে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ভাড়া আদায়ে বাধা দিচ্ছে এবং বৈধ নির্মাণকাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এতে প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ভবিষ্যৎ হুঁশিয়ারি:
মার্কেট কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা মালিকপক্ষের অসহযোগিতার কারণে যদি কোনো অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা ঘটে, তবে এর দায়ভার ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এবং জায়গার মূল মালিকপক্ষকে নিতে হবে। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভুক্তভোগীরা আইনি লড়াই ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
এ বিষয়ে ধামরাই জোনাল অফিসের পিওসি অফিসার খোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।