নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক ॥
ইরানকে বিভক্ত করে দেশটির বিশাল তেলসম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। সোমবার (০৯ মার্চ ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য তেলসম্পদ
সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাগাই বলেন, “ওয়াশিংটনের নীল নকশা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার। তারা ইরানকে টুকরো টুকরো করে এ দেশের প্রাকৃতিক তেলসম্পদ অবৈধভাবে দখল করতে চায়। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আমাদের সার্বভৌমত্বকে আঘাত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত।”
কূটনীতি নস্যাৎ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন
বাগাই অভিযোগ করেন, ইরান যখন আন্তরিকভাবে কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটছিল, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আলোচনার পরিবেশ নস্যাৎ করে দিয়ে হামলার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন:
“আমরা যখন পুরোপুরি কূটনৈতিক আলোচনায় নিমগ্ন ছিলাম, তখনই তারা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন, রীতিনীতি ও সকল মানবিক প্রথাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।”
ট্রাম্পের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কঠোর সমালোচনা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, ইরানের ভবিষ্যৎ কোনো বিদেশি শক্তি নয়, বরং দেশটির সাধারণ জনগণের ইচ্ছায় নির্ধারিত হবে। ইরানি জনগণ তাদের মাতৃভূমি এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
পরিশেষে বাগাই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা এবং জনগণকে পরাজিত করার যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বর্তমানে পুরো দেশ একযোগে এই আগ্রাসন মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ।