নিজস্ব প্রতিবেদক, মধুখালী, ফরিদপুর ॥
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোরকদি ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ইজারাকৃত জমিতে নীতিমালা লঙ্ঘন করে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। ইজারার শর্ত ভেঙে গভীর ও খাড়াভাবে মাটি কাটার ফলে পাড় ঘেঁষে থাকা বেশ কিছু বসতবাড়ি এখন ধসে পড়ার মুখে। এদিকে, স্থানীয় এক ভুক্তভোগী পরিবারকে পুলিশি হয়রানি ও ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান ইজারাদারের বিরুদ্ধে।
ইজারা জালিয়াতি ও অপরিকল্পিত খনন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের ওই জলাশয়টি মাছ চাষের জন্য রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বিভাগ থেকে প্রথমে সেলিনা বেগম নামের এক নারী ইজারা নেন। পরে ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে জমিটি মৌখিকভাবে পত্তন নিলেও কৌশলে ইজারাটি নিজের নামে করিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে জলাশয়টিকে গভীর ও খাড়া করে খনন শুরু করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরটি এমনভাবে খনন করা হয়েছে যে পাড় বলতে গেলে অবশিষ্ট নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই বসতবাড়িগুলো গর্তে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অস্তিত্ব সংকটে ভুক্তভোগী পরিবার
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা জনাব মুকুল মিয়া জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘকাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি করার সুবাদে সরকার থেকে এই জমিটি লিজ পেয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর চার ভাই সপরিবারে এখানেই বসবাস করছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,
“ওমর ফারুক জালিয়াতির মাধ্যমে লিজ নিয়ে এখন আমাদের উচ্ছেদের ভয় দেখাচ্ছেন। প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এই ভিটেটুকু হারালে সন্তানদের নিয়ে আমাদের পথে বসতে হবে।”
মুকুল মিয়া আরও জানান, তাঁরা চার ভাইয়ের নামে জমিটি পুনরায় পত্তন পাওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন, তবে এখনও কোনো সুরাহা হয়নি।
জনমনে আতঙ্ক ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
বংশপরম্পরায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা এখন প্রাণঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রভাবশালী ইজারাদারের খামখেয়ালিপনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ইজারা বাতিল এবং ভূমিহীন ও স্থানীয়দের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত ওমর ফারুকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী দ্রুত এই খনন কাজ বন্ধ এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।