নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ॥
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের তেলের বাজারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ বা বিঘ্নিত হতে পারে- এমন গুঞ্জনে রাজশাহীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাম্পগুলোতে জনপ্রতি ৩০০ টাকার বেশি জ্বালানি বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মাঠপর্যায়ের চিত্র শুক্রবার (০৬ মার্চ ২০২৬) সকাল থেকেই রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় অনেক চালক ও মালিক আগেভাগেই তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন। চাহিদা ব্যাপক বাড়লেও এখন পর্যন্ত তেলের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নির্ধারিত সীমার বেশি তেল না পাওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
নগরীর লতা ফিলিং স্টেশনে আসা মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম খোকন আক্ষেপ করে বলেন, “আমাকে ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে, অথচ পাম্প থেকে মাত্র ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। বাজারে তেলের ঘাটতি নেই, কিন্তু যুদ্ধের আতঙ্কে সবাই হুড়োহুড়ি করায় আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখার সভাপতি মনিমুল হক জানান, ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শুক্র ও শনিবার ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকে।
তিনি আরও বলেন, “স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন কয়েক গুণ বেশি গ্রাহক পাম্পে আসছেন। এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা নিয়ম মেনে তেল দিচ্ছি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় ভিড় এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছিল।”
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার প্রবণতাই এই সাময়িক সংকটের মূল কারণ। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পাম্প মালিকদের সমন্বিত তদারকি প্রয়োজন।