নিজস্ব প্রতিবেদক ও অনলাইন ডেস্ক ॥
সংবিধান সংস্কার বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে আগের ঘোষিত ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’- উভয় ভোটের সংখ্যাই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে
ইসি ঘোষিত সংশোধিত গেজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলের চেয়ে চূড়ান্ত হিসেবে ভোটের সংখ্যা সব খাতেই পরিবর্তিত হয়েছে।
ভোটের তুলনামূলক চিত্র:
| বিবরণ | প্রাথমিক ফলাফল (১৩ ফেব্রুয়ারি) | সংশোধিত ফলাফল (২৬ ফেব্রুয়ারি) | পার্থক্যের হার |
| ‘হ্যাঁ’ ভোট | ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ | ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ | ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি কমেছে |
| ‘না’ ভোট | ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ | ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১ | ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি কমেছে |
| বাতিল ভোট | ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ | ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬ | ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে |
| মোট প্রদত্ত ভোট | ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ | ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭ | ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে |
প্রেক্ষাপট ও আইনি বৈধতা
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। এই সংস্কার প্রস্তাবের ওপর জনমত যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
সংশোধিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বৈধ ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১০ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৫টি কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টিতে। নির্বাচন কমিশন এই বিপুল সংখ্যক ভোট হ্রাসের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা না করলেও জানিয়েছে, কমিশনের আদেশক্রমেই জনস্বার্থে এই সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
জুলাই সনদের চূড়ান্ত ধাপ
এই গণভোটের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সাংবিধানিক বৈধতা এবং জনসম্মতির বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশোধিত এই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন এক আইনি ভিত্তি রচিত হলো।