নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক ॥
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি আবেগঘন ও বিশ্লেষণধর্মী স্ট্যাটাস জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মো. রিফাত নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রম এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে এই ‘খোলা চিঠি’ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি সরকারের ইতিবাচক অর্জনের পাশাপাশি কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
ইতিবাচক শুরু ও আশার আলো
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতিটি পদক্ষেপ বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র ন্যায় ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে তিনি যেভাবে পুনর্গঠন করছেন, তাতে মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তার সুশিক্ষিত ও স্মার্ট নেতৃত্ব দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করেছে।
মন্ত্রিপরিষদের অদূরদর্শী বক্তব্য ও সমালোচনা
তবে এই স্বপ্নের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে বর্তমান মন্ত্রিসভার কিছু সদস্যের বিতর্কিত ও অনর্থক কথাবার্তা। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, যে জুলাই বিপ্লবের ওপর দাঁড়িয়ে এই সরকার ক্ষমতার মসনদে আসীন হয়েছে, কিছু মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সেই আন্দোলনের প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন করছেন না। তারা জুলাই আন্দোলনের স্লোগান ও ভাষাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে ছাত্র-জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছেন। এমনকি ‘জুলাই যোদ্ধা’দের স্বীকৃতি দিতেও তারা কার্পণ্য করছেন, যা চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের গুরুত্ব ও পরিবারের ত্যাগ
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখা এই বার্তায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে ছাত্র-জনতার রক্ত ও শাহাদাতের বিনিময়ে। এই আন্দোলনের ফলেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পেরেছেন এবং সুচিকিৎসা পেয়েছেন। এমনকি তার মৃত্যুপরবর্তী ঐতিহাসিক জানাজা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সগৌরবে দেশে ফেরার সুযোগও এই গণঅভ্যুত্থানেরই ফসল।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জনআকাঙ্ক্ষা ও আহ্বান
পোস্টটিতে প্রধানমন্ত্রীকে ‘শতাব্দীর অন্যতম মজলুম নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, ১৮ বছরের নির্বাসন, শারীরিক নির্যাতন এবং পরিবারের ওপর হওয়া সীমাহীন জুলুমের কথা তার ভুলে যাওয়া উচিত নয়। গত দেড় দশকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনে পিষ্ট জাতি আজ তার কাছে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রত্যাশা করে।
প্রতিবেদনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সবিনয় আহ্বান জানিয়ে বলা হয়:
“আপনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রথম প্রধানমন্ত্রী। আপনার বেশ কিছু ভালো উদ্যোগে জাতি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। অদূরদর্শী নেতাদের অহেতুক কথায় সেই স্বপ্ন যেন ভেঙে না যায়। আমরা চাই আপনি আপনার পিতামাতার মতো সম্মান নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করুন।”
পরিশেষে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবেন- এমনটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।