বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন
১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত আমিনুল ইসলাম এখন ১৬ বছর বয়সেই মিলবে এনআইডি: ইসির নতুন নির্দেশনা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও জনআকাঙ্ক্ষা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি খোলা চিঠি ৬ সিটিতে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোই লক্ষ্য দায়িত্ব নিলেন নতুন প্রশাসকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির পরিচালনা কমিটি গঠন: নেতৃত্বে সারজিস আলম সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান বগুড়ায় দুঃস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী ও নগদঅর্থ বিতরন করলেন সাবেক এমপি লালু বান্দরবানে এপেক্স ক্লাবের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ নড়াইলে ইফতার করতে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নসিমন চালক নিহত রাণীশংকৈলে আড়াই কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, ২ বছরেও ব্যবসা শুরু হয়নি

রাণীশংকৈলে আড়াই কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, ২ বছরেও ব্যবসা শুরু হয়নি

Coder Boss
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৭ Time View

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ॥
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে নির্মিত আড়াই কোটি টাকার একটি আধুনিক বাজার ভবন দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সেখানে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবসা কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে একদিকে ভবনের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সরকার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার ১০২ টাকা। উদ্দেশ্য ছিল কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য বিপণনে সুবিধা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো কাঁচা-পাকা দোকানের মাঝখানে দুই তলা বিশিষ্ট ভবনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু নিচতলার ৩৪টি এবং ওপরতলার ২৪টি দোকানঘর এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। নিচতলায় সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান বসার কথা থাকলেও অধিকাংশ ঘর ফাঁকা। দোতলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘরগুলোতেও ব্যবসা শুরু হয়নি।

বাজারে তিন শতাধিক ছোট-বড় দোকান রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এখনো খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে ব্যবসা করছেন। সাপ্তাহিক হাটের দিন রোববার কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও স্থায়ী দোকানগুলোতে নিয়মিত বেচাকেনা নেই। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনের টাইলস ও দেয়ালে ধুলা জমেছে, কিছু অংশে ক্ষয়ের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, বাজারটি বহু বছরের পুরোনো। এখানে ধান-গম ও গবাদিপশুর বড় লেনদেন হয়। কিন্তু নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় আমরা সুবিধা পাচ্ছি না।
দোতলার একটি দোকান বরাদ্দ পাওয়া ভবানন্দপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর নামে ঘর নিতে এক লাখ টাকা জামানত দিয়েছেন। মাসিক ভাড়া এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো দোকান চালু করার বিষয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা পাননি।

অন্য এক ব্যবসায়ী হালিম ,আবু হোসেনের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, এলজিইডি নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বাজার চালুর বিষয়টি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা এখনো ব্যবসা শুরু করেননি, তাঁদের দ্রুত চালু করতে বলা হবে। প্রয়োজন হলে নোটিশ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বাজারটি চালু করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করা হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102