নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও কাওরান বাজার ডেস্ক ॥
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। গতকাল (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানকে কেন্দ্র করে পণ্যের চাহিদা বাড়ার সুযোগে বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ ক্রেতারা। গত বছরের তুলনায় এবার অধিকাংশ জরুরি পণ্যের দাম চড়া থাকায় বাজারে গিয়ে অস্বস্তি নিয়ে ফিরছেন ভোক্তারা।
ফল ও সবজির বাজারে আগুন
রমজানে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ ফলের বাজারে দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তিন দিনের ব্যবধানে বেগুনের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৪০ টাকা। বর্তমানে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। লেবু, শসা ও অন্যান্য সবজির দামও আকাশছোঁয়া।
লেবু ও শসা: প্রতি হালি লেবু ১০০-১৪০ টাকা এবং আকারভেদে প্রতিটি ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা কেজিপ্রতি ১০০ টাকা (আগে ছিল ৮০ টাকা)।
অন্যান্য সবজি: প্রতি কেজি টমেটো ৬০ টাকা (আগে ৩৫), কাঁচা মরিচ ১০০-১২০ টাকা (আগে ৭০-৮০), এবং গাজর ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে আলু, যার দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮-২০ টাকায় নেমেছে।
ফলের চড়া দাম: মাল্টা ৩২০-৩৪০ টাকা, আপেল ৩০০-৪০০ টাকা, এবং আঙুর ৩৪০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইফতারে জনপ্রিয় ফল তরমুজ প্রতি কেজি ৭০-৯০ টাকা এবং কলার ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ৪০-৬০ টাকা।
মাংস ও ডিমের বাজারে অস্থিরতা
মুরগি ও গরুর মাংসের দাম ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে সোনালী মুরগির দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৩৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা এবং লেয়ার ৩১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস পাড়া-মহল্লার দোকানে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে; এক ডজন ফার্মের ডিম ১১০ টাকা হলেও হাঁস ও দেশি মুরগির ডিম ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুরের বাজারে আকাশচুম্বী দাম
রমজানের অপরিহার্য উপাদান খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মানভেদে আজুয়া ও মরিয়ম খেজুর ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, আর উন্নত মানের মেডজুল জাম্বু খেজুর ১৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ এসব খেজুর আগে থেকেই আমদানিকৃত ও মজুত ছিল বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
টিসিবি ও জনমত
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে রমজানকেন্দ্রিক ৯টি পণ্যের দাম বেড়েছে, আর কমেছে মাত্র ৪টির। পর্যাপ্ত আমদানি ও উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও এই দাম বৃদ্ধিকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।
কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা ফয়সাল আহমেদ বলেন, “নির্বাচনের পর থেকেই অনেক পণ্যের দাম বাড়তি। ১০ রমজানের আগে দাম কমার সম্ভাবনা কম।” তবে বাজারে পণ্যের ঘাটতি নেই বলে তিনি স্বীকার করেন। ক্রেতা সালমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার, সব জিনিসের দাম এভাবে বাড়লে আমাদের টিকে থাকা কঠিন। সরকারের উচিত কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করা।”
ক্রেতাদের দাবি, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।