নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে বিজয়ের মুকুট পরলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক। নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভের পর থেকেই তার দোহারের কলাকোপার বাসভবন ‘খন্দকার কুটির’ এখন উৎসবের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই বিজয় নেতাকর্মীদের মাঝে যেন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস নিয়ে এসেছে।
মিষ্টির মেলা ও জনস্রোত
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) গভীর রাত থেকেই ফলের মালা আর মিষ্টি নিয়ে প্রিয় নেতার বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, খন্দকার কুটিরের আঙিনা যেন এক আনন্দ মেলায় রূপ নিয়েছে। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি। ভ্যানে করে বড় বড় চাড়িতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে হরেক রকমের মিষ্টি। যে যার মতো সেখান থেকে মিষ্টি তুলে খাচ্ছেন।
শ্রমিকদল নেতা শাহিন মিয়া উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, “এবার প্যাকেট নয়, ভ্যানে করে মিষ্টি আনা হয়েছে। গত ১৭ বছরের সব দুঃখ-কষ্ট আজ এই আনন্দের জোয়ারে ভেসে গেছে।”

শান্তি ও সৌহার্দ্যের বার্তা
বিজয় নিশ্চিত হলেও এলাকায় কোনো ধরনের উসকানিমূলক মিছিল বা স্লোগান না দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। খন্দকার আবু আশফাক আগত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই বিজয় কোনো ব্যক্তির নয়, এই বিজয় জনতার ও গণতন্ত্রের। এখন সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার।” তিনি সবাইকে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
শুক্রবার দুপুরে তিনি স্থানীয় সোনাহাজরা মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে আবারও সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
ফলাফলের ব্যবচ্ছেদ
ঢাকা-১ আসনের মোট ১৮৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়:
খন্দকার আবু আশফাক (ধানের শীষ): ১,৭২,৪০২ ভোট
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলামী): ১,০৮,৯০৯ ভোট
অপরাজেয় আশফাক
খন্দকার আবু আশফাক তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এখনো পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেননি। নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদের ভিপি হিসেবে তার নেতৃত্বের যাত্রা শুরু। এরপর দুইবার উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এবার সংসদ নির্বাচনেও সেই অপরাজেয় ধারা অব্যাহত রাখলেন তিনি।