নিজস্ব প্রতিবেদক ও রংপুর প্রতিনিধি ॥
রংপুর: আসন্ন গণভোটে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার ( ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
বিপ্লবী ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “রংপুর শহীদ আবু সাঈদের পবিত্র রক্তে ভেজা মাটি। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ছিল, সেই জাতীয় ঐক্যকে যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি জনগণকে নিজ অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
রংপুরের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা:
রংপুরের সম্ভাবনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “অনেকে রংপুরকে অবহেলিত বা গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলকে নতুন করে ঢেলে সাজানো।” তারেক রহমান তাঁর পরিকল্পনায় উল্লেখ করেন:
রংপুরে কৃষিজাত পণ্যের বিশেষ শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে।
ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর মওকুফ বা ট্যাক্স হলিডে সুবিধা দেওয়া হবে।
কৃষক ও নারীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা:
সাধারণ মানুষের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ঘোষণা করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। প্রত্যেক কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’। এ ছাড়া অন্তত একটি ফসলের জন্য বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী?” জনতা মুহুর্মুহু করতালিতে ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দিলে তিনি উপস্থিত সবাইকে ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার অনুরোধ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।