নিজস্ব প্রতিবেদক ও ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা ॥
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটে হার-জিতের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার পাওয়া নতুন ভোটার এবং বিশাল এই তরুণ জনগোষ্ঠীর মন জয়ের ওপরই নির্ভর করছে কোন দল বসবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিজিটাল প্রজন্মের এই বিশাল জনশক্তিই এবারের নির্বাচনে প্রকৃত ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।
ভোটের মাঠে তারুণ্যের জয়জয়কার
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ কোটি। এর মধ্যে একদম নতুন ভোটার হয়েছেন ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ২১৬ জন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নতুন ভোটারদের মধ্যে পুরুষের (১৮.৭০ লাখ) তুলনায় নারী ভোটারের (২৭.০০ লাখ) সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন,
“দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। বিগত সময়ে যারা ভোট দিতে পারেননি এবং যারা একদম নতুন, তাদের মধ্যে ভোট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ কাজ করছে। এই তরুণ ভোটাররাই এবার ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ হবেন।”
বয়সভিত্তিক ভোটার বিন্যাস
ইসির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২)। এ ছাড়াও অন্যান্য বয়সসীমার ভোটার সংখ্যা নিম্নরূপ:
১৮-২১ বছর: ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮ জন
২২-২৫ বছর: ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬ জন
৩০-৩৩ বছর: ১ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৫ জন
অন্যদিকে, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী জ্যেষ্ঠ ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৪। বয়সভিত্তিক এই বিশাল পার্থক্যের কারণেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে কর্মসংস্থান, আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
একনজরে নির্বাচনি পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গতকাল রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছেন।
বিষয় পরিসংখ্যান
মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন
পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন
নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন
হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন
মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬৬টি
মোট ভোটকক্ষ (বুথ) ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি
বিশাল কর্মযজ্ঞ ও প্রস্তুতি
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন দক্ষ জনবল দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার হিসেবে থাকছেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. শাহজাহান বলেন, “সাধারণত প্রথাগত ভোটগুলো নির্দিষ্ট কিছু বলয়ে ভাগ হয়ে থাকে। কিন্তু তরুণ ভোটাররা কোনো নির্দিষ্ট ছকে সীমাবদ্ধ নয়। তারা যে দলের ইশতেহারে নিজেদের ভবিষ্যতের প্রতিফলন দেখবে, ভোট সেদিকেই যাবে।”
ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত ও সচেতন এই প্রজন্ম প্রথাগত রাজনীতির বাইরে কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন। ফলে শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্রই এখন নির্বাচনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষা।