বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম :
মিরসরাইয়ে যুবদল নেতা কামাল হত্যার বিচারের দাবিতে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও স্মারক লিপি প্রদান ইসলামপুরে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন কুমিল্লায় ট্রেন-বাস ভয়াবহ সংঘর্ষ: শিশু ও নারীসহ প্রাণ গেল ১২ জনের জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান সেতু উল্টে পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ ৫ জনের মৃত্যু সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান নিয়ে নতুনধারার ঈদ মেহমান উৎসবেও বিষণ্ণ আশ্রয়ণ প্রকল্প: জোটেনি নতুন জামা, ঘরে নেই সেমাই-চিনি সালথায় অর্ধশতাধিক পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো ‘সততা যুব সংঘ’ আরব বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে শুক্রবার ঈদুল ফিতর সরকারের ভুল ধরিয়ে দেয়াই বিরোধী দলের কাজ: পানিসম্পদ মন্ত্রী ‎লালমনিরহাটে ঈদ উপলক্ষে ‘রোজ’ এনজিওর খাদ্য সহায়তা বিতরণ

দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

Coder Boss
  • Update Time : রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৮১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা॥
বাংলাদেশের প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। শনিবার (১০ জানুয়ারি ১০২৬) এ সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি মূলত সংশ্লিষ্ট ‘আরবিট্রেশন কাউন্সিলের’ এখতিয়ারভুক্ত, স্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।

রায়ের মূল পর্যবেক্ষণ
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১’ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পুরুষকে অবশ্যই আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। তবে এই আইনের কোথাও এমন কোনো শর্ত নেই যে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না থাকলে বিয়েটি অবৈধ হবে। দীর্ঘদিন ধরে সমাজে প্রচলিত ‘স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা অবৈধ’-এই ধারণাটিকে আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।

রায়ে আরও বলা হয়, আরবিট্রেশন কাউন্সিল উভয় পক্ষের বক্তব্য, স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য এবং বর্তমান পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। স্ত্রী অনুমতি না দিলেই বিয়ের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে-এমন ব্যাখ্যা আইনি কাঠামোর বাইরে।

শাস্তি ও আইনি সীমাবদ্ধতা
আইনগত প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে আদালত জানান: পুরানো আইন: দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়েতে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

বর্তমান বিধান: ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ জারির পর এই কঠোরতা শিথিল করা হয়েছে। এখন দ্বিতীয় বিয়েকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে তা কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে।

লঙ্ঘনের সাজা: যদি কোনো পুরুষ আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করেন, তবে তাকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা (কিংবা উভয় দণ্ড) ভোগ করতে হতে পারে। তবে এই শাস্তির অর্থ এই নয় যে বিয়েটি বাতিল হয়ে যাবে।

আপিলের ঘোষণা
এদিকে হাইকোর্টের এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রিটকারী পক্ষ। তারা মনে করেন, এই রায়ের ফলে সমাজে বহুবিবাহের প্রবণতা বাড়বে এবং নারীদের আইনি সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়বে। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102