নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও লন্ডন প্রতিনিধি॥
লন্ডন/ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছর ৩ মাসের এক অনিচ্ছাকৃত প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মাটির টানে স্বদেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনৈতিক মামলা, বৈরী পরিবেশ আর অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা ২০০৮ সালের সেই বিদায় আজ রূপ নিয়েছে রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।
হিথ্রোতে সাধারণের মাঝে অসাধারণ
বুধবার রাত সোয়া ১০টায় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে হিথ্রো বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন তারেক রহমান। পরনে কালো প্যান্ট, সাদা শার্টের ওপর ক্রিম রঙের চেক স্যুট—সাজে ছিল না কোনো আড়ম্বর, তবে চলনে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কোনো বিশেষ প্রটোকল বা ভিআইপি লাউঞ্জ নয়, বরং সাধারণ যাত্রীদের সারিতে দাঁড়িয়েই তিনি ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সাংবাদিকদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর কৌতূহলী দৃষ্টির ভিড়ে তিনি ছিলেন ধীরস্থির ও শান্ত।
এক প্রজন্মের দীর্ঘ অপেক্ষা
২০০৮ সালে যখন তিনি দেশ ছাড়েন, কন্যা জাইমা রহমানের বয়স ছিল মাত্র ১৩। আজ দীর্ঘ এক প্রজন্মের ব্যবধানে সেই কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ফিরছেন এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশে। ১৭ বছর ৩ মাসের এই দীর্ঘ সময় কেবল একটি পরিবারের বিচ্ছেদকাল নয়, বরং এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির এক বন্ধুর পথচলা। হিথ্রোর শীতল আকাশ আর প্রবাসের যান্ত্রিকতা পেছনে ফেলে তার এই যাত্রা এখন এক নতুন ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে।
রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে কেবল একজন রাজনীতিবিদের দেশে ফেরা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। এটি একটি নির্বাসিত অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক মেরুকরণের ইঙ্গিত। তার এই ফেরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে যেমন প্রাণের সঞ্চার করেছে, তেমনি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি করেছে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা।
লন্ডন থেকে ঢাকার এই কয়েক হাজার মাইলের দূরত্ব আজ ঘুচে যাচ্ছে। দেশের জনপদ, রাজপথ আর মানুষের ভিড়ে মিশে যেতে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে আগামীর রাজনৈতিক সম্ভাবনা। প্রিয় নেতার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে পুরো বাংলাদেশ।