একজন ফেসবুক ইউজারের ওয়াল থেকে সংগৃহীত ॥
সম্প্রতি এক ফেসবুক ইউজার বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও তীর্যক মন্তব্য সংবলিত একটি প্রতিবেদন তার ওয়ালে প্রকাশ করেছেন। এই প্রতিবেদনে তিনি দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তাদের কর্মী বাহিনীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শারীরিক অসুস্থতা ও নেতৃত্ব
প্রতিবেদনটিতে দেশের প্রধান দুই নেত্রীর শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার প্রবণতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।
খালেদা জিয়া: ইউজারের মতে, খালেদা জিয়া বর্তমানে চলাচলের জন্য অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল এবং বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে কাটান। বয়সের কারণে তার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে গেছে উল্লেখ করে ইউজার প্রশ্ন তোলেন, এমন অবস্থায়ও কেন তিনি এবার তিনটি আসনে লড়ার পরিকল্পনা করছেন।
রওশন এরশাদ: তিনি দাবি করেন, রওশন এরশাদও নিজে নিজে চলতে পারেন না, তবুও দলের শীর্ষ পদ নিয়ে কামড়াকামড়ি করেছেন। জাতীয় পার্টির আমলে তাকে ‘স্বর্ণ চোরাচালানের হোতা’ হিসেবে জানতেন বলেও মন্তব্য করেন।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ: মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যাওয়া সত্ত্বেও এরশাদ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলীয় পদ ছাড়তে চাননি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বহু বছর জেল খেটেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
দুর্নীতি ও পলায়নের অভিযোগ
ইউজার দুই প্রধান দলের নেত্রীর আমলের দুর্নীতি ও ক্ষমতা হারানোর চিত্র তুলে ধরেছেন:
খালেদা জিয়া: ইউজার অত্যন্ত দুঃখের সাথে উল্লেখ করেন যে, তার আমলে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
শেখ হাসিনা: ইউজার দাবি করেন, শেখ হাসিনা বয়সের কারণে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে পালিয়ে আছেন। যাওয়ার আগে বহু মানুষ গুম, হত্যা ও পঙ্গু করে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা দেশ জ্বালিয়ে দিতেও প্রস্তুত। ইউজার বিস্ময় প্রকাশ করে লেখেন, দেশের ৯৯% মানুষ তাকে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য করার পরও তিনি আবার ক্ষমতায় আসতে মরিয়া।
ক্ষমতার মোহ ও কর্মী সংস্কৃতি
প্রতিবেদনের সবচেয়ে কঠোর অংশটি হলো রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতার প্রতি সীমাহীন মোহ এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের চরিত্রায়ণ।
ক্ষমতার মোহ: ইউজার অবাক হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই নেতারা কেউ ক্ষমতায় গিয়ে আর স্বেচ্ছায় নামতে চান না, বরং তাদের ‘টেনেহিঁচড়ে নামাতে হয়’।
কর্মী ও সমর্থক: তিনি দাবি করেন, এই নেতাদের লাখ লাখ ‘অন্ধভক্ত’ আছে, যাদেরকে আমরা কর্মী হিসেবে চিনি। এদের প্রায় সবাই বেকার।
এই কর্মীদের প্রধান কাজ হলো বিপরীত পক্ষের সাথে মারামারি করা।
দল ক্ষমতায় এলে তাদের কাজ হয় চাঁদাবাজি ও মাস্তানি করা।
তিনি আরও দাবি করেন, এদের বিরাট একটি অংশ অশিক্ষিত ও টোকাই।
এরাই দল ক্ষমতায় এলে সমাজের হর্তাকর্তা হয়ে ওঠে।
নেতা ও কর্মীর যোগ্যতা: ইউজারের মতে, রাজনৈতিক নেতাদের একমাত্র যোগ্যতা হলো অসততা ও মিথ্যাবাদীতা, আর কর্মীদের যোগ্যতা হলো নেতাদের পা চাটা ও তোষামোদী করা।
আলোর মুখ দেখতে না পারার কারণ
লেখক তার পর্যবেক্ষণের উপসংহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো দেশের কোনো নেতা কখনোই অযোগ্য হন না, এমনকি দুর্নীতির চূড়ান্তে উঠলেও না। তার মতে, বাংলাদেশ ততদিন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে না, যতদিন পর্যন্ত দেশের দলান্ধ,