নিজস্ব প্রতিবেদক / অনলাইন ডেস্ক ॥
ঢাকা: রাজধানীর বছিলায় চলন্ত বাসের ভেতর পোশাক নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করে একা লড়ে যাওয়া এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর সাহসিকতার চিত্র এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। গত ২৭ অক্টোবর রমজান পরিবহনের একটি বাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ভিডিও দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে, যা গণপরিবহনে নারীদের হয়রানির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও সাহসী প্রতিবাদ
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাসের সামনের আসনে বসা এক ব্যক্তির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তরুণীটি তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তেড়ে যান। সেই সময় লোকটি আসন ছেড়ে উঠে তাকে চড় মারেন। একপর্যায়ে দুজনেই জুতা খুলে পরস্পরের দিকে উদ্যত হন। আক্রমণকারী ব্যক্তি বারবার তরুণীকে আঘাত করেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তরুণী উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলতে থাকেন, “তুই আমার পোশাক তুলে কেন কথা বলবি?”
দুর্ভাগ্যবশত, বাসের অধিকাংশ যাত্রী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। সামনের দিকে থাকা মাত্র দুজন নারী ও একজন পুরুষ ছাড়া আর কেউ প্রতিবাদী তরুণীকে সাহায্য করতে বা আক্রমণকারীকে থামানোর চেষ্টা করেননি। জুতা হাতে ওই তরুণী একাই বাসের কনডাক্টর বলে পরিচিত লোকটির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান।
হেনস্তাকারী গ্রেপ্তার, মামলা দায়ের
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে দ্রুতই প্রতিবাদী তরুণী ও হেনস্তাকারী ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়। হেনস্তাকারী ব্যক্তিটি হলেন নিজাম উদ্দিন (৪৫), যিনি রমজান পরিবহনের ওই বাসের কনডাক্টর।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৪-এর অপারেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবরার ফয়সাল জানান, র্যাব-৪ গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে নিজাম উদ্দিনকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করেছে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক জানিয়েছেন, শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ভুক্তভোগী তরুণী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় (যৌন নিপীড়ন) মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই মামলায় নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে হাফ ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাসের কনডাক্টর তরুণীর পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং তাকে আঘাত করেন।
যৌন নিপীড়ন আইনের অধীনে ব্যবস্থা
প্রসঙ্গত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারাটি যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।
এদিকে, হেনস্তার শিকার তরুণী, যিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না বলে বন্ধুদের ও এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন। আইনগত কারণে তার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।