বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম :
মিরসরাইয়ে যুবদল নেতা কামাল হত্যার বিচারের দাবিতে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও স্মারক লিপি প্রদান ইসলামপুরে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন কুমিল্লায় ট্রেন-বাস ভয়াবহ সংঘর্ষ: শিশু ও নারীসহ প্রাণ গেল ১২ জনের জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান সেতু উল্টে পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ ৫ জনের মৃত্যু সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান নিয়ে নতুনধারার ঈদ মেহমান উৎসবেও বিষণ্ণ আশ্রয়ণ প্রকল্প: জোটেনি নতুন জামা, ঘরে নেই সেমাই-চিনি সালথায় অর্ধশতাধিক পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো ‘সততা যুব সংঘ’ আরব বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে শুক্রবার ঈদুল ফিতর সরকারের ভুল ধরিয়ে দেয়াই বিরোধী দলের কাজ: পানিসম্পদ মন্ত্রী ‎লালমনিরহাটে ঈদ উপলক্ষে ‘রোজ’ এনজিওর খাদ্য সহায়তা বিতরণ

জুলাইয়ের দমন-পীড়ন ছিল পরিকল্পিত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত: নাহিদ ইসলামের জবানবন্দী

Coder Boss
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১০৮ Time View

অনলাইন ডেস্ক ॥
ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো দমন-পীড়ন ছিল পরিকল্পিত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত। সেই সময়ে পুলিশ এবং সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

নাহিদ তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘জুলাইয়ের সেই আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে দেখতে গিয়েও হামলার শিকার হতে হয়েছিল।’

তিনি আরও জানান, ১৬ জুলাই আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ ছয়জন শহীদ হন। এর প্রতিবাদে পরদিন ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত গায়েবি জানাজা ও কফিন মিছিলে হামলা চালানো হয়। একই দিনে হল থেকে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়।

১৮ জুলাই সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ডাক দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ, মাদরাসা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। নাহিদ অভিযোগ করেন, ঢাকার বাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর, যাত্রাবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। সেই সঙ্গে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরাও হামলায় অংশ নেয়। এ সময়ে বহু মানুষ শহীদ ও আহত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর আন্দোলনকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের সঙ্গে আপস না করলে দমন-পীড়ন আরও বাড়বে। জবাবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।’

তৎকালীন সরকারকে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে নাহিদ বলেন, তারা তিনবার নির্বাচনে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করেছিল। তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালেই তাদের সন্দেহ হয়েছিল যে শেখ হাসিনা সরকার কোটা সংস্কার বা বাতিল করতে চায়নি, বরং সুযোগ বুঝে তা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর সেটিই বাস্তবায়িত হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোটা সংস্কার ছিল একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন, কোনো আদালতের বিষয় নয়। তাই আন্দোলনকারীদের কাছে এটা পরিষ্কার ছিল যে, রাজপথেই তাদের দাবি আদায় করতে হবে। আদালতের প্রতি তাদের কোনো আস্থা ছিল না বলেও তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102