নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা ।।
ঢাকার দোহার নবাবগঞ্জের অধিকাংশ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার (১৮ জুন) ঈদের ছুটিতে একটু আনন্দ উপভোগ করতে এসব পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এসেছেন অসংখ্য মানুষ তাঁদের পরিবার পরিজন নিয়ে।
পদ্মা নদীর তীরেও যেন কমতি নেই ঈদ আনন্দের। সকল বয়সী বিনোদন প্রেমীদের উপস্থিতি এখানেও নজর কাড়ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, যাজটমুক্ত পরিবেশে পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিনোদন প্রেমীরা ছেলে মেয়ে ও অন্যান্যদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দোহার ও নবাবগঞ্জে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। প্রচন্ড গরম ও মাঝে মধ্যে সামান্য বৃষ্টির মাঝে মঙ্গলবার দোহার মৈনটঘাটের মিনি কক্সবাজার এলাকাতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের প্রচন্ড ভিড়। মহামারী করোনার পর এ বছর সব চেয়ে বেশী দর্শনার্থী দেখা গেছে এখানে।
মৈনট মিনি কক্সবাজারে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মোঃ আবু কালাম বলেন, পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য বিকেলে অনেকটাই আনন্দের। পাখির কিচির-মিচির শব্দ আর সবুজ অরণ্যে ঘুরে বেড়াতে নান্দনিক মনে হচ্ছে। গ্রাম্য পরিবেশে একটু সময় কাটাতে ঈদের ছুটিতে অনেকের মতো আমরাও পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছি। এদিন দোহারের বাহ্রা ঘাট, নারিশা ডাক বাংলা, বিলাসপুর পদ্মা পাড়ে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপায় এলাকায় অবস্থিত আদনান প্যালেস পার্ক, খেলারাম দাতার মন্দির, কলাকোপা আনসার একাডেমী, ওয়ান্ড্রেরেলা গ্রীণ পার্ক, বজ্র নিকেতন, তেলি বাড়ির ঘাট,ঝর্ণা গার্ডেন, চা বাড়ি যেন মানুষের উপচে পড়া ভীর। কৈলাইলের রওশন গার্ডেনসহ হাসনবাদ গির্জা, আড়িয়াল বিল সড়ক, দোহার-নবাবগঞ্জ সংযোগ সড়কের নিকড়া বিলসহ একাধিক স্থানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদ পরবর্তী ছুটির দিনে তাঁরা একটু বিনোদন করতেই এখানে এসেছেন। এছাড়া বিভিন্ন রেস্তোরা ও ফাস্টফুডে একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
অপরদিকে এসব বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে টাইটনিক দোলনা, নাগরদোলা, ট্রেন, শিশুদের খেলনা, সুইমিংপুল, পশুপাখির ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন নতুন খেলনা ও শিশুদের জন্য রাইডগুলো সাজানো হয়েছে রঙ্গিন করে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা বেশ উৎফুল্ল ও আনন্দ উল্লাসে সময় কাটাতে দেখা যায়। এছাড়া এসব স্থানের বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষদের দেখা যায় ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে।
স্থানীয় জনসাধারণ ও বিনোদন পার্কের সাথে জড়িত একাধিক লোকজন জানায়, একসময় রাজধানীর নিকটবর্তী দোহার ও নবাবগঞ্জে তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র ছিল না। তবে সম্প্রতি ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র। এসব বিনোদন কেন্দ্রে প্রতিদিনের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতেও স্থানীয় লোকজন ছাড়াও সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা,কর্মচারীগন আসেন। চলে দিনব্যাপী বিভিন্ন বিনোদন অনুষ্ঠান।
দোহারের মৈনটঘাটে ঘুরতে আসা ভ্রমন পিপাসুরা এসব বিনোদন কেন্দ্রে ঈদের ছুটিতে আনন্দ উপভোগ করছে। তাঁরা কেউ পদ্মার পাড়ে পরিবার নিয়ে নৌকায় ঘুরছে, কেউ বা স্পীডবোড নিয়ে নদীতে হিমেল বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার পদ্মার চরে কাঁশবনের পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছে। এ দিকে দোহারের বাহ্রাঘাট এলাকায় সদ্য গড়ে উঠা পদ্মা গ্রীন নামের রিসোর্টে দেখা যায় অনেক লোকের সমাগম। বন্ধু বান্ধবী নিয়ে খোলা আকাশের নিচে সবুজের মাঠে বা পদ্মার পাড়ে বসে খুশ গল্পে মেতে উঠেছে অনেকেই।