নিজস্ব প্রতিবেদক, সালথা (ফরিদপুর) ॥
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর বাজারে সরকারি খালের জমি দখল করে একের পর এক পাকা দোকানঘর নির্মাণের মহোৎসব চলছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু হওয়া এই দখলের ধারাবাহিকতা পটপরিবর্তনের পরও থামেনি; বরং বর্তমানে খালের বাকি অংশেও নতুন করে স্থাপনা তোলার তোড়জোড় চলছে।
দখলের নেপথ্যে যারা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে এক প্রভাবশালী উপজেলা চেয়ারম্যানের ছত্রচ্ছায়ায় জনৈক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে অন্তত ১০টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর আরও একটি দোকান নির্মিত হয়। বর্তমানে খালের অবশিষ্টাংশ দখল করে নতুন আরেকটি পাকা দোকান নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে।
স্মৃতিতে নৌপথ, বাস্তবে আবর্জনা
একসময় এই খালটি ছিল সোনাপুর বাজারের প্রাণ। নৌপথে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা-নেওয়া করতেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে নৌপথের গুরুত্ব কমে যাওয়ার সুযোগে এবং প্রভাবশালী মহলের থাবায় খালটি এখন মৃতপ্রায়। স্থানীয়রা জানান:
একসময় অস্থায়ী টং দোকান থাকলেও এখন সেখানে রহস্যজনকভাবে স্থায়ী পাকা ভবন তৈরি হচ্ছে।
দখলদারদের দাবি- জায়গাটি তাদের নিজস্ব সম্পত্তি এবং এর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।
অথচ এলাকাবাসীর দাবি, এটি পৈতৃক আমল থেকেই সরকারি খালের জায়গা হিসেবে পরিচিত।
খনন প্রকল্পের রহস্যজনক সমাপ্তি
অভিযোগ উঠেছে, কয়েক বছর আগে সোনাপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় খাল খনন করা হলেও বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকুকে বাদ রাখা হয়। ফলে কুমার নদ থেকে বাজারের উত্তর পাশের খালে পানির প্রবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুকনো মৌসুমে তীব্র পানির সংকটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান বাবু বলেন,
“আমার প্রভাব থাকাকালীন জায়গাটি পরিষ্কার রেখেছিলাম। কিন্তু সাবেক কর্মকর্তারা অনৈতিকভাবে ম্যানেজ হয়ে এখানে ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছেন। জনস্বার্থে এই জায়গাটি উদ্ধার করা জরুরি, না হলে ভবিষ্যতে খালের অস্তিত্বই থাকবে না।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন জানান, সরকারি জমি দখলের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সরেজমিনে পরিমাপ করে যদি খালের জায়গায় দোকান নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে সরকারি জমি উদ্ধার করা হবে।