নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকা ॥
চিকিৎসা বিজ্ঞানে পা-কে অনেক সময় শরীরের ‘আয়না’ বলা হয়। কারণ, শরীরের অভ্যন্তরীণ অনেক জটিল রোগের প্রাথমিক সংকেত সবার আগে আমাদের পায়ের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। অথচ আমরা শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটিকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পায়ের সামান্য পরিবর্তন বা অস্বস্তি হতে পারে বড় কোনো রোগের পূর্বাভাস।
পা দেখে যেভাবে বুঝবেন রোগ, পায়ের নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তন যে রোগগুলোর ইঙ্গিত দেয়:
পা ফুলে যাওয়া (এডিমা): দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে না থাকা সত্ত্বেও যদি পা ফুলে থাকে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি হৃদরোগ (Heart Failure), কিডনি জটিলতা কিংবা লিভার সিরোসিসের লক্ষণ হতে পারে। শরীর যখন সঠিকভাবে রক্ত বা তরল পাম্প করতে পারে না, তখন তা পায়ে জমে ফুলে যায়।
ঝিঁঝিঁ করা বা অবশ ভাব: নিয়মিত পায়ে সুঁই ফোঁটানোর মতো অনুভূতি বা অবশ ভাব হওয়া ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’র লক্ষণ, যা মূলত ডায়াবেটিসের সংকেত দেয়।
পা ঠান্ডা থাকা: রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা থাকলে কিংবা শরীরে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে পায়ের পাতা বা আঙুল সবসময় ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
পেশিতে টান লাগা: শরীরে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা পটাশিয়ামের ঘাটতি থাকলে হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান বা খিঁচুনি ধরে। এছাড়া শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলেও এমনটি হতে পারে।
আঙুলে ব্যথা ও লাল হওয়া: পায়ের বুড়ো আঙুলের জয়েন্টে হঠাৎ তীব্র ব্যথা এবং ফুলে লাল হয়ে যাওয়া ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি বা ‘গাউট’ (Gout) রোগের প্রধান লক্ষণ।
না শুকানো ক্ষত: পায়ে কোনো ক্ষত যদি দীর্ঘ সময় ধরে না শুকায়, তবে তা উচ্চ রক্তচাপ বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ভয়াবহ সংকেত।
লক্ষণগুলো পায়েই কেন আগে দেখা দেয়?
শরীরের ভেতরে রোগ থাকা সত্ত্বেও লক্ষণগুলো পায়ে আগে প্রকাশ পাওয়ার পেছনে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে:
অভিকর্ষ বল (Gravity): অভিকর্ষ বলের টানে শরীরের রক্ত ও তরল নিচের দিকে নামার প্রবণতা বেশি থাকে। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হলে নিচ থেকে রক্ত টেনে উপরে তুলতে পারে না, ফলে পায়ে পানি জমে বা ফুলে যায়।
হৃৎপিণ্ড থেকে দূরত্ব: হৃৎপিণ্ড থেকে পা সবচেয়ে দূরে অবস্থিত। ফলে রক্ত সঞ্চালনে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব এই দূরবর্তী অংশে সবার আগে পড়ে।
সূক্ষ্ম রক্তনালী: পায়ের রক্তনালী ও স্নায়ু অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়। তাই রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়লে বা পুষ্টির অভাব হলে এই সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলোই সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অতিরিক্ত চাপ: সারাদিন শরীরের পুরো ওজন বহন করে পা। যার ফলে হাড় বা জয়েন্টের যেকোনো ক্ষয়জনিত সমস্যার প্রভাব পায়েই প্রথম অনুভূত হয়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: > পায়ে নিয়মিত অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করালে অনেক বড় ধরণের শারীরিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।