কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি ॥
১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকহানাদার বাহিনীর নৃশংস হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিল কেরানীগঞ্জ। ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর অতর্কিত আক্রমণে প্রাণ হারান প্রায় পাঁচ হাজার নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ। সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছরের মতো ২ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে পালিত হয়েছে গণহত্যা দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জিনজিরা মনু বেপারীর ঢাল এলাকায় নির্মিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেরানীগঞ্জ মডেল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুন মাওয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ, উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান প্রমুখ।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ২৫ মার্চের কালরাতের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বর আক্রমণ থেকে বাঁচতে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষ কেরানীগঞ্জে আশ্রয় নেন। তাদের মধ্যে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ তাজউদ্দিন আহমেদ, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আব্দুর রব, আব্দুর রাজ্জাক ও ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলামসহ অনেকেই ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের খাবার, আশ্রয় ও নানাভাবে সহায়তা করেন। এ প্রেক্ষাপটেই ২ এপ্রিল ভোরে পাকহানাদার বাহিনী কেরানীগঞ্জে অতর্কিত হামলা চালায়। নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তারা গণহত্যা সংঘটিত করে। শুধু হত্যাযজ্ঞেই থেমে থাকেনি তারা অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও স্থাপনা আগুনে পুড়িয়ে দেয়।