নিজস্ব প্রতিবেদক ও সংসদীয় প্রতিনিধি, ঢাকা ॥
সংবিধানের পরিবর্তন নিয়ে আইনসভায় মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। সংবিধান কি কেবল ‘সংশোধন’ হবে, নাকি আমূল ‘সংস্কার’ করা হবে- এই তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিভক্তি। সরকারি দল ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিলেও বিরোধী জোট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া তারা কোনো কমিটিতে অংশ নেবে না।
সংস্কার বনাম সংশোধন: বিতর্কের কেন্দ্রে যা
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, বর্তমান সংবিধানের সীমাবদ্ধতার কারণে কেবল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে মৌলিক কাঠামো বা ‘বেসিক ফিচার’ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান এই প্রসঙ্গে বলেন:
“দেশের প্রচলিত আইনের আলোকে সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলো কেবল সংশোধনীর মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ সংস্কার। সরকার যদি কেবল ‘সংশোধন কমিটি’ করে, তবে সেখানে আমাদের অংশগ্রহণ করা কঠিন হবে।”
বিরোধী দলের দাবি ও প্রস্তাব
বিরোধী দলগুলো মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্দিষ্ট করা, বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো টেকসই করতে হলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন অপরিহার্য। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের জন্য আলাদা বডি গঠনসহ কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী ও গাঠনিক বডি প্রয়োজন, যা সাধারণ সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভব নয়। এছাড়া কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য রাখার দাবিও তুলেছে তারা।
সরকারের অবস্থান ও চিফ হুইপের বক্তব্য
অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানকে ভিত্তি ধরেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে চায় সরকারি দল। সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, সকল দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে ১৫-২০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন:
কমিটিতে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ আইন বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও প্রতিনিধি রাখা হবে।
সরকার অত্যন্ত সদিচ্ছার সাথে সবার মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন করতে চায়।
সংসদ কমিটির অন্যান্য সিদ্ধান্ত
এদিকে বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে সংসদ কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এমপিদের আবাসন সমস্যার সমাধানে ১০ এপ্রিলের ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সংসদ ভবনের চিকিৎসা কেন্দ্র, সুপেয় পানি, উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি দ্রুত সমাধানের জন্য গঠিত কমিটির কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।