নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোতে বিপ্লব ঘটাতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি বিশালাকায় মেগা প্রকল্প, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক সংযোগের চিত্র আমূল বদলে যাবে।
১. পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতুর সফলতার পর এবার পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়াকে যুক্ত করতে দ্বিতীয় একটি পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার। এটি চালু হলে রাজধানীর সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর দূরত্ব ও সময় ব্যাপক হারে কমবে। বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দর ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও সাশ্রয়ী ও গতিশীল হবে।
২. যমুনায় বিকল্প সেতু
উত্তরবঙ্গের সাথে রাজধানীর নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিতে যমুনা নদীর ওপর আরেকটি বিকল্প সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যমান সেতুর দুই প্রান্তের সড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলেও মূল সেতুটি চার লেনের হওয়ায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুন সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এক্ষেত্রে বগুড়া-জামালপুর অথবা গাইবান্ধা-দেওয়ানগঞ্জ করিডোরকে রুট হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
৩. ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে
দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসন ও আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে একটি আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই এক্সপ্রেসওয়েটি মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সাথে যুক্ত হয়ে একটি সমন্বিত বৃহৎ আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। এর ফলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাথে সারা দেশের পণ্য পরিবহন আগের চেয়ে অনেক দ্রুততর হবে।
উন্নয়ন কৌশল ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা
এই তিনটি মেগা প্রকল্পই বর্তমান সরকারের বৃহৎ উন্নয়ন কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা ও সম্ভাব্য ব্যয় প্রাক্কলনের কাজ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধাপে ধাপে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা এবং অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী এক দশকের মধ্যে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।