নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডেস্ক ॥
সচিবালয়ের ব্যস্ত সকাল। নিজের দপ্তরে কাজে নিমগ্ন ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফারজানা মান্নান। হঠাৎ দরজায় কড়া নেড়ে কক্ষে প্রবেশ করলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জীবনের সাধারণ এক মুহূর্তে দেশের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তার এমন উপস্থিতিতে মুহূর্তেই যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।
২৯ মার্চ রবিবার সকালে কোনো পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছাড়াই আকস্মিকভাবে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সাধারণ ও আন্তরিক আচরণে সচিবালয়জুড়ে এক অনন্য আমেজ সৃষ্টি হয়।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তাগিদ
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সম্পদ রক্ষায় কর্মকর্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে অপচয় রোধে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নির্দেশনা দেন যে, কোনো কর্মকর্তা রুমে না থাকলে বা কাজ শেষ হয়ে গেলে যেন অবশ্যই লাইট ও ফ্যান বন্ধ রাখা হয়। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের সবাইকে মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের সম্পদ রক্ষায় আমাদের প্রত্যেকের সচেতনতা উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে।”
‘এটা সারা জীবন মনে থাকবে’
প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করে সরাসরি যুগ্ম সচিব ফারজানা মান্নানের কক্ষে যান। তার ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেন এবং কর্মপরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন সাদামাটা আচরণে আপ্লুত ফারজানা মান্নান পরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন:
“আমি বিস্মিত, আমি অভিভূত। আমি কখনো ভাবতেও পারিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার কক্ষে আসবেন। তাঁর এই উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা আমাদের সারা জীবনের জন্য মনে থাকবে এবং কাজের স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।”
প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরকে প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সম্পদে জনগনের মালিকানা নিশ্চিত করার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।