নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
ঈদের আমেজ কাটতে শুরু করলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে এখনো ফেরেনি স্বস্তি। ছুটির রেশ ধরে অনেক দোকানপাট বন্ধ থাকায় এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ভিড় কম থাকলেও পকেট কাটছে বাড়তি দাম।
শনিবার রাজধানীর মিরপুর-৬ ও ১১ নম্বর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যবসায়ী এখনো কাজে না ফেরায় বাজারে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা এখনো পুরোপুরি জনবহুল না হওয়ায় লেনদেন কিছুটা কম, তবে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দামের ওপর পড়েনি।
রেকর্ড উচ্চতায় মুরগির বাজার
সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি বিরাজ করছে মুরগির বাজারে। খামার থেকে বাজার পর্যন্ত পরিবহন খরচ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে লাগামহীন হয়ে পড়েছে মুরগির দাম। বাজারে বর্তমানে:
সোনালি মুরগি: ৩৫০ টাকা (কেজি), লেয়ার মুরগি: ৩৭০ টাকা (কেজি), দেশি মুরগি: ৭০০ টাকা (কেজি), ব্রয়লার মুরগি: ২০০-২২০ টাকা (কেজি)
মাংস ও মাছের হালচাল
মাংসের বাজারে চড়া দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২০০ টাকার আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই চিত্র। মাঝারি মানের রুই ও কাতলা ৩২০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ও তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা এবং চিংড়ি ৬৫০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি শিং ও শোল মাছের কেজি ঠেকেছে ৬৫০ টাকায়।
চাল ও সবজির বাজার পরিস্থিতি
চালের বাজারে ব্র্যান্ডভেদে দরের ভিন্নতা দেখা গেছে। মোজাম্মেল মিনিকেট ৯০ টাকা এবং মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৮৫-৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের মিনিকেট মিলছে ৭০-৮০ টাকার মধ্যে।
সবজির বাজারে শীতকালীন রেশ কাটতে না কাটতেই দাম আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে করলা ১৬০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া ঢ্যাঁড়শ, বরবটি ও পটোল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে তুলনামূলক কম দামে মিলছে পিঁয়াজ (৪০-৫০ টাকা) ও আলু (২০ টাকা)।
বিক্রেতাদের ভাষ্য
ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে দর বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও দাম কমানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরবরাহ চেইন পুরোপুরি সচল হলে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।