মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম :
র‍্যাবের নতুন মহাপরিচালক ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ৩৯টি দেশে তেলের দাম বেড়েছে, খাল খনন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী রাণীশংকৈলে গম চাষে আধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তাপ রড-সিমেন্টের বাজারে: দুই সপ্তাহে টনপ্রতি বেড়েছে ৭ হাজার টাকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা মার্কিন সিনেটরের ধামরাইয়ে ঝটিকা পরিদর্শনে এমপি তমিজ উদ্দীন: টেকসই উন্নয়নের নির্দেশনা ডিসেম্বরে পূর্ণ সক্ষমতায় রূপপুর: জুনেই মিলবে পরমাণু বিদ্যুৎ “ঈদ” বারবার উচ্ছেদের পরও কদমতলী সড়ক হকারদের দখলে পঞ্চগড়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হায়াতুন আলম আগামী নির্বাচনে পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র প্রার্থী

নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা মার্কিন সিনেটরের

Coder Boss
  • Update Time : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন সংকটের মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি। তার মতে, পরিস্থিতির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ভুল রণকৌশল এবং ইরানের সক্ষমতাকে খাটো করে দেখার কারণে পুরো অঞ্চল এখন যুদ্ধের দাবানলে জ্বলছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে ডেমোক্র্যাট দলীয় এই সিনেটর চলমান পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, “এখন এটি স্পষ্ট যে ট্রাম্প এই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা নিয়ে তিনি যে ধারণা করেছিলেন, তা ছিল মারাত্মক ভুল।”

হরমুজ প্রণালিতে ঘোর সংকট
মারফি জানান, প্রথম বড় সংকটটি দেখা দিয়েছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ট্রাম্প ভেবেছিলেন ইরান এই নৌপথ বন্ধ করার সাহস দেখাবে না, কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটছে। তেহরানের ড্রোন, দ্রুতগামী স্পিডবোট এবং সামুদ্রিক মাইনের মুখে এই পথ সুরক্ষিত রাখা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন আকাশচুম্বী।

ড্রোনের শক্তিতে বদলে যাওয়া যুদ্ধ
আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ভূমিকা বুঝতে ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করেন মারফি। তিনি বলেন, ইরানের কাছে প্রচুর পরিমাণে সস্তা কিন্তু শক্তিশালী ড্রোন রয়েছে, যা দিয়ে তারা অনির্দিষ্টকাল ধরে অঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোতে আঘাত করতে সক্ষম। ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ট্রাম্প যদি রণকৌশলের পরিবর্তন খেয়াল করতেন, তবে বুঝতে পারতেন যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে। এমনকি ইসরায়েলের মতো দেশের ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার মজুদও ফুরিয়ে আসছে।”

বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধের মানচিত্র
সংঘাত এখন আর নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। মারফি সতর্ক করেন যে, লেবানন ও ইরাকে থাকা ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া এবং লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েল যদি লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করে, তবে তা পুরো অঞ্চলের জন্য নতুন বিপর্যয় ডেকে আনবে।

লক্ষ্যহীন যুদ্ধ ও ‘আর্মাগেডন’-এর হুমকি
সিনেটর মারফির মতে, এই যুদ্ধ শেষ করার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা ‘এন্ডগেম’ ট্রাম্প প্রশাসনের নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে সরাসরি স্থল অভিযানে অংশ নেয়, তবে হাজার হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যু হবে, যা এক ‘আর্মাগেডন’ বা মহাপ্রলয়ের রূপ নিতে পারে। আবার কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়া বিজয় ঘোষণা করে চলে আসলেও ইরান তার ধ্বংস হওয়া শক্তি পুনরায় সঞ্চয় করবে।

পরিশেষে মারফি ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টরা এ ধরনের বোকামি করেননি কারণ এর পরিণতি ছিল অনুমেয়। এখন ধ্বংসযজ্ঞ কমানোর একমাত্র উপায় হলো এই সংঘাতের ইতি টানা।”

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102