পাবনা প্রতিনিধি ॥
দেশের জ্বালানি খাতে সূচিত হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী জুন-জুলাই মাসেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ। প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
উৎপাদন ও সরবরাহের রোডম্যাপ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী এপ্রিলেই প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের কাজ শুরু হবে। এরপর জুন-জুলাই নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে আগস্টে ৭৮৭ মেগাওয়াট এবং সেপ্টেম্বরে ৯৯১ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ানো হবে। বছরের শেষ নাগাদ অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বরে পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এপ্রিলের মধ্যে জ্বালানি লোড শেষ করে জুন-জুলাইয়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর জোর প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি নিশ্চিত করেন যে, পরীক্ষামূলক উৎপাদনের শুরু থেকেই সেই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক লেনদেনের জটিলতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে এবং যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এটি চালু হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশ সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ পাবে।”
পটভূমি
পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘রোসাটম’-এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে এই বিশাল প্রকল্প। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পর দ্বিতীয় ইউনিটটিও দ্রুত উৎপাদনে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।