রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ॥
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। পরে বিএনপির করা মামলায় এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীরা আলোচনা করছিলেন। এ সময় জামায়াতের সংসদ সদস্যদের কক্ষ ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হলে সেখানে উপস্থিত জামায়াতের নেকমরদ ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড সভাপতি আক্তার হোসেন প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে আক্তার হোসেন তাঁর সমর্থকদের খবর দেন। পরে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম, ফারুক ও রুবেল এবং জামায়াত নেতা আক্তার হোসেন আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরদিন শনিবার (১৪ মার্চ) বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম সাতজনের নাম উল্লেখ করে রাণীশংকৈল থানায় একটি মামলা করেন। এদিকে জামায়াত নেতা রবিউল ইসলামও পাঁচজনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছেন। রাণীশংকৈল থানার পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াতের নেতা আক্তারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নুর আলিফ বলেন, জামায়াতের লোকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে একজনের মাথায় কোপ দেয়। এতে তাঁর মাথায় ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে। বিষয়টি আমরা দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রেস সেক্রেটারি শাহাজালাল জুয়েল বলেন, আমাদের কর্মীর মাথা ফেটে ১০টি সেলাই পড়েছে। এরপরও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা অমানবিক।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, উভয় পক্ষই থানায় মামলা করেছে। একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।