আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
তেহরান/মানামা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের পানিশোধনাগারে হামলার প্রতিবাদে এবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘জুফাইর’ লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সময়ে সৌদি আরবের বিমানঘাঁটি ও ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হিজবুল্লাহর হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির আঘাত
আইআরজিসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার (০৭ মার্চ, ২০২৬) ইরানের কেশম দ্বীপের একটি পানিশোধনাগারে জুফাইর ঘাঁটি থেকে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে আইআরজিসির চৌকস ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ওই মার্কিন ঘাঁটিতে সফল হামলা চালায়। ইরান এই ঘটনাকে ‘আমেরিকান সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক
এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ‘প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস’ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে একটি জনবসতিহীন এলাকায় পতিত হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে সে বিষয়ে রিয়াদ এখনও স্পষ্ট কিছু না বললেও পুরো অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি অবস্থানে হিজবুল্লাহর হামলা
অন্যদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) তথ্যমতে, আহতরা গিভাতি ব্রিগেডের সদস্য। হিজবুল্লাহর অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েলও পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে।
অস্থিতিশীল উপসাগরীয় অঞ্চল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত চাপের মুখে ইরান এখন সরাসরি উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরবে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।