নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডেস্ক ॥
ঢাকা: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ২০২৬-এর নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি এখন নতুন মোড় নিয়েছে। রাষ্ট্রপতির যে অধ্যাদেশের বলে ২০২৯-এর পরিবর্তে ২০২৬ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, সেই অধ্যাদেশেই উল্লেখ ছিল নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বৈত শপথ গ্রহণের কথা। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে। এই আইনি মারপ্যাঁচে এখন বর্তমান সরকারের বৈধতা এবং ১১ দলীয় জোটের অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দ্বৈত শপথের আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিএনপির অবস্থান
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দুটি শপথ পাঠ করানোর কথা। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ- উভয় শপথ গ্রহণ করলেও বিএনপি দ্বিতীয় শপথটি গ্রহণ করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এই দ্বিতীয় শপথ না নিয়ে এক বড় ধরনের আইনি সংকটে পড়েছে। কারণ, যে আইনি প্রক্রিয়ায় বর্তমান সরকার বৈধতা পাচ্ছে, সেই একই প্রক্রিয়ায় ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ এবং এর সদস্যদের সভাও বৈধ।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সক্রিয়তা ও সরকারের চ্যালেঞ্জ
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা জুলাই সনদে আনীত সংস্কারগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আইনত কোনো বাধা দেখছেন না। যেহেতু একই কাগজে পরপর দুটি শপথ লিপিবদ্ধ ছিল, তাই যারা শপথ নিয়েছেন, তারা নিজেদের আইনিভাবে সুরক্ষিত দাবি করছেন। এই পরিস্থিতিতে পরিষদ যদি সভা শুরু করে, তবে সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে:
১. বিএনপিকে বাধ্য হয়ে দ্রুত শপথ নিতে হবে।
২. অথবা, পরিষদের সদস্যদের গ্রেফতার করতে হবে।
তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে যে, এই পর্যায়ে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে তা স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা বিগত সরকারের পতনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে পারে।
দ্রব্যমূল্য ও জনঅসন্তোষের হাওয়া
বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবীরা দাবি করছেন, সাধারণ জনগণ এখন সংবিধান বা গণভোট নিয়ে মাঠে নামার চেয়ে সুশাসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যদি গত বছরের তুলনায় অসহনীয় হয়ে ওঠে, তবে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে। ‘জনগণ ক্লান্ত’- বুদ্ধিজীবীদের এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে জুলাই বিপ্লবের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হতে শুরু করেছেন।
প্রবাসীদের আল্টিমেটাম ও রেমিট্যান্স স্ট্রাইক
সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে প্রবাসীরা ইতোমধ্যে নতুন কৌশল অবলম্বন করার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১০ রমজান থেকে ১৭ রমজান পর্যন্ত ‘রেমিট্যান্স স্ট্রাইক’ বা টাকা পাঠানো বন্ধ রাখার ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা একে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি ‘হলুদ কার্ড’ হিসেবে দেখছেন।
উপসংহার
সংবিধান সংস্কারের শপথ না নেওয়া পর্যন্ত আইনি দৃষ্টিতে বর্তমান সরকারের পূর্ণাঙ্গ বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রিট বা আদালতের আইনি লড়াই চললেও গণভোটের রায়কে আদালত চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এমতাবস্থায় সরকার কি আলোচনার পথে হাঁটবে, নাকি নতুন কোনো সংঘাতের পথে দেশ এগোবে- সেটাই এখন দেখার বিষয়।