নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর, মফস্বল ডেস্ক ॥
ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার এবং বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা দফায় দফায় এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সালথা উপজেলার খারদিয়া এলাকায় টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আব্দুল মান্নান ও তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। শনিবার সকালে সেই বিরোধ চরমে পৌঁছালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।
অন্যদিকে, বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আব্দুল মান্নান ও বিরোধী আরেকটি গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এতে আরও ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের অন্তত দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ৮-১০টি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জীবন বাঁচাতে নটখোলা গ্রামের বেশ কিছু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
সরেজমিন চিত্র
সরেজমিনে বড়খারদিয়া, নটখোলা ও ময়েনদিয়া গ্রাম ঘুরে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন দেখা গেছে। পুড়ে যাওয়া দেয়াল, ভাঙা দরজা-জানালা ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, হামলাকারীরা আকস্মিক ও সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালায় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মূল্যবান আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ ভস্মীভূত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এই পূর্বপরিকল্পিত হামলার রূপ নিয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন:
“আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের না হলেও জড়িতদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।