নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধি ॥
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে নিরাপত্তার নিচ্ছিদ্র বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নেমেছেন সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সদস্য। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিন তারা নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় থাকবেন। তাদের সাথে মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী), বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সব বাহিনী স্ব-স্ব রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় কোস্ট গার্ড ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বাহিনীর বিন্যাস ও জনবল
নির্বাচনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন পরিকল্পনা নিম্নরূপ:
আনসার ও ভিডিপি: ৫,৭৬,৪৮৩ জন (প্রায় ৪২,৭৭৯টি কেন্দ্রে)।
পুলিশ: ১,৮৭,৬০৩ জন (১ লাখ ৫৭ হাজার সরাসরি কেন্দ্রে)।
সেনাবাহিনী: ১,০৩,০০০ জন।
বিজিবি: ৩৭,৪৫৩ জন (৪৮৯টি উপজেলায়)।
র্যাব: ৯,৩৪৯ জন।
কোস্ট গার্ড: ৩,৫৮৫ জন।
নৌ ও বিমানবাহিনী: যথাক্রমে ৫,০০০ ও ৩,৭৩০ জন।
গ্রাম পুলিশ: ৪৫,৮২০ জন।
কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা কৌশল
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য এই সংখ্যা সামান্য পরিবর্তিত। এছাড়া দুর্গম ২৫টি জেলার নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে সরাসরি ৯৯৯ নম্বরে কল করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
দায়িত্বশীলদের বক্তব্য
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাসউদ জানান, “মাঠের পরিস্থিতি বর্তমানে নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে। সেনাবাহিনী আগে থেকেই ছিল, তবে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সাত দিনের জন্য সক্রিয় হয়েছে। ব্যালট বাক্সসহ সরঞ্জাম ইতোমধ্যে জেলাগুলোতে পৌঁছে গেছে।”
আইজিপি বাহারুল আলম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “পুলিশের আনুগত্য কেবল আইন ও দেশের প্রতি। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রতি নয়। পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাই হবে মূল চালিকাশক্তি।”
বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করেই ৩৭ হাজারের বেশি সদস্য ২৯৯টি আসনে মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। জরুরি প্রয়োজনে তাদের ডগ স্কোয়াড ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১,১৯১টি টিম মোতায়েন থাকছে।
প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ২ হাজার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, প্রশাসন সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছে। সারা দেশের মতো উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়-১ আসনেও এখন নির্বাচনি আমেজ তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ব্যালট যুদ্ধের মাধ্যমে জয় কার হবে, তা জানতে দেশবাসী মুখিয়ে আছে ভোটের দিনের দিকে।