নিজস্ব প্রতিবেদক, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ব্যাংকক: পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সংসদ নির্বাচন। একই সাথে দেশের সংবিধান সংশোধন নিয়ে একটি ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল থেকেই দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
স্বাভাবিক নিয়মে ২০২৩ সালের নির্বাচনের পর বর্তমান সংসদের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও নানা রাজনৈতিক নাটকীয়তায় দুই বছর আগেই আজ আগাম ভোট দিতে কেন্দ্রে যাচ্ছেন থাই নাগরিকরা।
যে কারণে এই আগাম নির্বাচন
গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে যে অস্থিরতা শুরু হয়, তার ধারাবাহিকতাতেই আজকের এই নির্বাচন। এর নেপথ্যে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:
সীমান্ত উত্তেজনা ও অডিও ফাঁস: ২০২৫ সালের মে মাসে প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সাথে সীমান্ত উত্তেজনায় এক থাই সেনা নিহত হন। এর পরবর্তী মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ও কম্বোডিয়ার নেতা হুন সেনের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানে হুন সেনকে ‘আংকেল’ সম্বোধন করে নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেন সিনাওয়াত্রা।
জোট ভাঙন ও নৈতিকতা বির্তক: ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সিনাওয়াত্রার ফিউ থাই পার্টির প্রধান মিত্র ‘ভুমজাইথাই পার্টি’ জোট ছেড়ে দিলে সরকার পতনের মুখে পড়ে। এরপর আগস্ট মাসে দেশটির সাংবিধানিক আদালত নৈতিকতা ভঙ্গের দায়ে সিনাওয়াত্রাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করে।
নতুন জোট ও নির্বাচনের শর্ত: সেপ্টেম্বরে ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল ‘প্রোগ্রেসিভ পিপলস পার্টি’র সাথে জোট বেঁধে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে শর্ত ছিল, তাকে দ্রুত সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। সেই শর্ত পূরণ করতেই ডিসেম্বর মাসে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং আজকের এই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই নির্বাচন এবং সংবিধান নিয়ে গণভোট থাইল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সূত্র: বিবিসি