নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ডেস্ক ॥
গত ১৭ বছরের আওয়ামী দুঃশাসন ও জুলুমের অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা যখন দেশত্যাগ করেন, তখন জনমানসে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা ছিল তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই মুহূর্তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি অনায়াসেই ৯০ শতাংশ আসনে জয়লাভ করত। দীর্ঘ দেড় দশকের নিপীড়ন সয়ে টিকে থাকা দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের অগাধ আস্থা ও সহানুভূতি ছিল। মানুষের বিশ্বাস ছিল-যারা নিজেরা জুলুমের শিকার হয়েছে, তারা অন্তত ক্ষমতায় গিয়ে অন্যের ওপর জুলুম করবে না।
জনমোহভঙ্গ ও আদর্শিক বিচ্যুতি
তবে দৃশ্যপট পাল্টাতে সময় লেগেছে মাত্র ১৭ মাস। যে জনতা বিএনপির মাঝে মুক্তির পথ খুঁজছিল, তারাই এখন দলটির কর্মকাণ্ডে বীতশ্রদ্ধ। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থের বিনিময়ে আশ্রয় দেওয়া, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্বের সংস্কৃতিতে বিএনপিও জড়িয়ে পড়েছে। ডাকসু নির্বাচনে পরাজয় ছিল দলটির জন্য একটি বড় ‘অ্যালার্মিং বেল’, কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি। বরং আওয়ামী ঘরানার ভোটারদের তুষ্ট করার চেষ্টায় নিজেদের ত্যাগী কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের দূরে ঠেলে দিয়েছে।
কৌশলগত ভুল ও বিতর্কিত অবস্থান
নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির ‘দোদুল্যমানতা’ ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। শুরুতে ‘না’ ভোটের ক্যাম্পেইন এবং পরবর্তীতে আবার ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণাকে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক অপরিপক্বতা হিসেবে দেখছে। এছাড়া দলটির কোনো কোনো নেতার উদ্ধত আচরণ এবং ‘ভোট যেন পৈতৃক সম্পত্তি’-এমন মানসিকতা সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করেছে। মাঠপর্যায়ের জনমত বলছে, মানুষ এখন আওয়ামী লীগের পর বিএনপি থেকেও নিস্তার চাইছে।
বদলে যাওয়া সমীকরণ
বিএনপির এই সাংগঠনিক ও কৌশলগত দুর্বলতার সুযোগে ভোটের মাঠ এখন অনেকটাই জামায়াত ও এনসিপির (NCP) নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। আওয়ামী লীগের ওপর বিতৃষ্ণা আর বিএনপির ওপর আস্থাহীনতার যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, ভোটাররা এখন তার বিকল্প হিসেবে এই জোট বা শক্তির দিকেই ঝুঁকছেন। সব মিলিয়ে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে-যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কেবল অন্য রাজনৈতিক দল নয়, বরং খোদ জনরোষ।