রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম :
দুর্নীতি ও বঞ্চনার ৫৪ বছরের ইতিহাস মুছে দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থীদের সহিষ্ণুতায় প্রধান উপদেষ্টার সন্তোষ, কাল থেকে মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপদ নিউজের সফলতার ১২ বছর উত্তরাঞ্চলকে শিল্প জোনে রূপান্তরের অঙ্গীকার তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গে আজ তারেক রহমানের নির্বাচনী সফর: প্রস্তুত তিন জেলা নির্বাচনি প্রচারে আজ সিলেটে যাচ্ছেন জামায়াত আমির কারাগারে অসুস্থ হয়ে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু আজকের নামাজ: জেনে নিন ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর সময়সূচি রয়টার্সকে তারেক রহমান: ‘নির্বাচন পরবর্তী সরকারে জামায়াতকে সঙ্গী করবে না বিএনপি’ প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল আর নেই: আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে জানাজা

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আযাদের ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ

Coder Boss
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৪৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ডেস্ক ॥
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘ এক যুগ পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হয়ে এই আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আযাদ সকালে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শুনানি না হওয়ায় আবেদন জমা দিয়েই তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।

এক যুগ পর ফেরা ও সাজা স্থগিতের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের মার্চে আবুল কালাম আযাদ পাকিস্তান হয়ে দেশে ফেরেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে। দেশে ফেরার পর তিনি দণ্ডাদেশ স্থগিতের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। সরকার তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে একটি শর্ত জুড়ে দেয়- তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়ের করতে হবে। সেই শর্ত মেনেই আজ তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হন।

প্রথম রায়েই হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হলে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রথম রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। মামলার শুরু থেকেই তিনি পলাতক থাকায় নির্ধারিত সময়ে আপিল করার সুযোগ হারান। ২০১৫ সালে জানা গিয়েছিল, তিনি পাকিস্তানের সহায়তায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।

প্রমাণিত অপরাধের খতিয়ান
ট্রাইব্যুনালের রায়ে আযাদের বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
এর মধ্যে রয়েছে:
১৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা।
তিন নারীকে ধর্ষণ।
৯ জনকে অপহরণ ও ১০ জনকে দীর্ঘকাল আটকে রাখা।
৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়িতে লুটপাট।

একাত্তরে আযাদের ভূমিকা
রায়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে ফরিদপুরের বড়খাড়দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী আযাদ ছিলেন জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার লক্ষ্যে তিনি রাজাকার ও আল-বদর বাহিনীর স্থানীয় নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল তিনি ফরিদপুরে পাকিস্তানি সেনাদের অভ্যর্থনা জানান এবং হিন্দু সম্প্রদায় ও স্বাধীনতার পক্ষের বাঙালিদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালান।

দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর তার এই আকস্মিক আত্মসমর্পণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102