নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেস্ক রিপোর্ট ॥
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানির শেষ দিনে গতকাল নাটকীয় মোড় নিয়েছে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য। চার শতাধিক প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ভোটের লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ পেলেও কপাল পুড়েছে বেশ কয়েকজনের। বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকলেও দ্বৈত নাগরিকত্ব ও আইনি জটিলতায় ছিটকে পড়েছেন চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির সারোয়ার আলমগীরসহ আরও কয়েকজন।
গতকাল (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আলোচনায় আসলাম চৌধুরী ও লতিফ সিদ্দিকী
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিল রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে এর বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করা হয়। দীর্ঘক্ষণ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ইসি আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখার রায় দেয়। এদিকে টাঙ্গাইল-৪ আসনে সাবেক মন্ত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কমিশন। নিষিদ্ধ দলের (আওয়ামী লীগ) নেতা হওয়ার যুক্তিতে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের দাবি তোলা হলেও কমিশন জানায়, দল নিষিদ্ধ হলেও ব্যক্তি নিষিদ্ধ নন। ফলে তাঁর নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।
কপাল পুড়ল সারোয়ার আলমগীরের
চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু ওই আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিনের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে সারোয়ারের প্রার্থিতা বাতিল করে কমিশন। এ ছাড়া কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং কুমিল্লা-৩ আসনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
নাগরিকত্ব জটিলতা কাটিয়ে ফিরলেন মিন্টু
ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা নিয়ে ছিল দ্বৈত নাগরিকত্বের সংশয়। তবে তিনি সময়মতো (২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে) নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে ইসি। যদিও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা দেওয়া নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সিইসিকে চিঠি দিয়েছেন মামুন হাওলাদার নামে এক সচেতন নাগরিক।
‘শরবত মিজান’ এখন ভোটের মাঠে
২০১৯ সালে ওয়াসার এমডিকে শরবত খাওয়াতে চেয়ে আলোচনায় আসা মিজানুর রহমান ঢাকা-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে গরমিল থাকায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে শুনানিতে ভোটারদের সশরীরে হাজির করে তাঁদের সমর্থন প্রমাণ করায় কমিশন তাঁকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে মিজান বলেন, “মানুষের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও কিছুটা অনীহা কাজ করছে। আমরা মানুষের জীবনমান উন্নত করতে মাঠে নেমেছি।”