নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচার মোকাবিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঐতিহাসিক নির্বাচন ও ইইউ-এর পর্যবেক্ষণ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ইইউ অ্যাম্বাসাডর মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৬ বছরে ইইউ বাংলাদেশে কোনো পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। তবে আগামী নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ বিবেচনা করে এবার তারা বড় একটি প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে। এই মিশন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং সব বড় রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, “নির্বাচন ও গণভোট অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। এটি হবে একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং আনন্দঘন উৎসব।”
প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও অপপ্রচার রোধ
নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জানানো হয়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শরীরে থাকবে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’। একটি কেন্দ্রীয় অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকা থেকেই সরাসরি মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
গণভোট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত
সংবিধান সংস্কার বা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আয়োজিত গণভোটের বিষয়ে ড. ইউনূস জানান, সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার চালাবে। শীর্ষ আইনজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এতে সরকারের কোনো আইনি বাধা নেই। অন্যদিকে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে প্রেস সচিব জানান, অর্থ শনাক্তের কাজ চলছে। এটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হওয়ায় পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আকি আবের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এদিন জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আকি আবে নির্বাচন-পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. ইউনূস তাঁর তিনটি মূল লক্ষ্যের কথা জানান:
১. ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
২. তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি।
৩. তাঁর বিখ্যাত ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ) মডেল নিয়ে কাজ করা।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান সফর করবেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।