নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশজুড়ে গণভোটের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। হাতে সময় মাত্র ৩৫ দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটযুদ্ধকে সামনে রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এবারের নির্বাচনে রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ৭ লাখের বেশি নিরাপত্তা সদস্য।
৭ দিনের জন্য মাঠে নামছে সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনী
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্র অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিনের জন্য মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ভোটের আগে চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন অন্তর্ভুক্ত। অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী (সেনাবাহিনী) মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ দায়িত্বে থাকবে কোস্টগার্ড।
নিরাপত্তার বিশাল বলয়
নির্বাচন ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবার ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আনসার-ভিডিপির সাড়ে ৫ লাখ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ৯০ হাজারেরও বেশি সদস্য। এছাড়া পুলিশ ও বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মিলিয়ে সংখ্যাটি ৭ লাখ ছাড়াবে। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সমন্বয় সেলের সাথে কাজ করবে।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লড়াই
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিলের পর বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৪২ জন। তবে বাদ পড়া প্রার্থীদের আপিল আবেদন জমা দেওয়ার হিড়িক পড়েছে ইসিতে। গতকাল তৃতীয় দিন শেষে মোট আপিল আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি। আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিল নিষ্পত্তি করবে কমিশন।
নির্বাচনী সূচি ও প্রস্তুতি
তফসিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক পাওয়ার পর ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার চালাতে পারবেন। প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু হচ্ছে, যেখানে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি ভোটার ভোট দিতে পারবেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে কঠোর ইসি
মাঠে নির্বাচনি হাওয়া বইতে শুরু করলেও অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পাল্লা ভারী হচ্ছে। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রীতার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও তোলা হচ্ছে। তবে কমিশন জানিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জরিমানা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।
একনজরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট:
ভোটের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মোট ভোটার: পৌনে ১৩ কোটি
ভোটকেন্দ্র: ৪২ হাজার ৭৬৬টি
ভোটকক্ষ: ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫টি
বিদেশি পর্যবেক্ষক: ২৬টি দেশ ও ৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বর্তমানে পুরোদমে চলছে।