নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ। উত্তরবঙ্গ ডেস্ক॥
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা নওগাঁয় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পুরো জনপদ, ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা ও আবহাওয়া পরিস্থিতি
বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জেলায় ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া বিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী, তাপমাত্রা ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকায় জেলাটিতে বর্তমানে ‘মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ’ বইছে। মাত্র তিন দিন আগেও এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দ্রুত তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় শীতের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় চারপাশ। এর সঙ্গে উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসের ঝাপটা শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত দুদিন দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিলে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই তাপমাত্রা দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে।
বিপর্যস্ত জনজীবন
শীতের এই আকস্মিক তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভোরে কাজে বের হওয়া কৃষি শ্রমিক ও রিকশাচালকরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেককে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের এই তীব্রতা আগামী কয়েক দিন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।