নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক॥
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ছিলেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারী ২০২৬) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শরীফ হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রতিহিংসার নেপথ্যে যা ছিল
ডিবি প্রধান জানান, শরীফ ওসমান হাদি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত পরিচিত ও আলোচিত একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সাহসী ও সমালোচনামূলক বক্তব্য রাখতেন তিনি। তার এই জোরালো অবস্থানের কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
যেভাবে বাস্তবায়িত হয় হত্যাকাণ্ড
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। ডিবি জানায়, সরাসরি গুলি করা যুবক ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর এই হামলায় সম্পৃক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সরাসরি সহায়তা করেন যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি।
আসামিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং হাদির পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।
চিকিৎসা ও মৃত্যু
হামলার পরপরই শরীফ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।